‘দুর্নীতি নয়, জনগণের সেবা করতে এসেছি’

Bangladesh Prime Minister Sheikh Hasina gestures while speaking during a press conference after the national election in Dhaka on January 6, 2014. Bangladesh's Prime Minister Sheikh Hasina insisted her walkover win in an election boycotted by the opposition was legitimate and blamed her rivals for the unprecedented bloodshed on polling day. AFP PHOTO/STRSTR/AFP/Getty Images

Bangladesh Prime Minister Sheikh Hasina gestures while speaking during a press conference after the national election in Dhaka on January 6, 2014. Bangladesh’s Prime Minister Sheikh Hasina insisted her walkover win in an election boycotted by the opposition was legitimate and blamed her rivals for the unprecedented bloodshed on polling day. AFP PHOTO/STRSTR/AFP/Getty Images

দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডেস্ক।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুর্নীতি করে টাকা উপার্জন নয়, জনগণের সেবা করতে এসেছি।’ ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের উত্তর মেদেনীমণ্ডলের খানবাড়িতে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের বিচার হবেই। আর যুদ্ধাপরাধীদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক এগিয়ে এসেও পয়সা প্রত্যাহার করে নেয়ার পর আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করবো। এখন আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।’

সভায় সভাপতিত্ব করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। এতে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-আলম খান লেলিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন

শনিবার দুপুর ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

ভিক্ষা চেয়ে নয়, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিক্ষা চেয়ে নয়, হাত পেতে নয়, বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরি করছে। বাংলাদেশ পারবে। আমি বিশ্বাস করি। লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। এখন এ স্বাধীন দেশের মানুষই পদ্মাসেতু নির্মাণ করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শত বাধার মুখেও বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, তারা পারে। অনেক ঝড়-ঝাপ্টা-চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। অনেক বাধার পর আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এখন এ কাজ যেন নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারি সেজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

নদীশাসন কাজের উদ্বোধন

শরীয়তপুরের জাজিরায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পদ্মা সেতুর নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে মূল পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হলো।

বাঙালি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণ হয়েছে বাঙালি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

যারা ভিটে-মাটি দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজে জড়িতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভিটে-মাটি দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই সেতু নির্মিত হলে বাংলাদেশ আরও গতিশীল হবে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যরা সবাই অবহেলার চোখে দেখেছে। আমরা দক্ষিণাঞ্চলে নতুন পোর্ট করেছি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। রেলওয়ে যোগাযোগও উন্নত হবে।’

আঞ্চলিক উন্নয়ন বাড়বে

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ নির্মাণ কাজে সবার সহযোগিতা কাম্য। এতে এপার-ওপার দুইপারের বাসিন্দারাই সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পদ্মাসেতু নির্মিত হলে কেবল আমাদের দেশের নয়, আঞ্চলিক উন্নয়নও হবে।’

পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকে এগিয়ে এসেও হঠাৎ পিছিয়ে গেছে।’

বিশ্বব্যাংক বিএনপি সরকারের সময়ের দুর্নীতির কাগজ দেখায়

তিনি বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নিলে বিশ্ব ব্যাংক এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়া তারা দুর্নীতির অভিযোগ আনে। যদিও আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিএনপি সরকারের সময়ের দু’টি দুর্নীতির কাগজ দেখায়।’

আরেকটি সোনালী অধ্যায় শুরু

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের ইতিহাসের আরেকটি বীরত্বগাথার ঐতিহাসিক দিন। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আজ এই বিজয় দিবসে বাংলার ইতিহাসে আরেকটি সোনালী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।’

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply