২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১২ ডিসেম্বর, ২০১৭|মঙ্গলবার, রাত ১১:৫৮

সেই ১১ জনকে এখনো খোঁজেন স্বজনেরা

Disappearance 01_The Dhaka Reportইকবাল হোসেন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)।।

‘মা মৃত্যুর আগেও তাঁর ছেলে নজরুল ইসলামের অপেক্ষায় ছিলেন, কখন ছেলে বাড়ি আসবে। তাঁর ধারণা ছিল, টাকার জন্য হয়তো ছেলে বাড়ি আসতে পারছে না। ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর আগেও নাতি বাবুলকে ৫০ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, “ছেলে আঁটিবাজারে আছে। তাকে নিয়ে আয়।”’

কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের শহীদ নজরুল ইসলামের ছোট বোন হাসিনা বেগম (৬৫)।

১৯৭১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কলাতিয়া ইউনিয়নের ১১ জন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই ছিলেন তৎকালীন কায়েদে আজম জিন্নাহ কলেজের (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। এঁরা হলেন কলাতিয়া ইউনিয়নের ফতেহনগরের আব্দুস সালাম মোল্লা, আলীনগরের মুহাম্মদ শাহজাহান, রাধাকান্তপুরের শাহাদাৎ হোসেন, আবুল হোসেন, ঢালেকান্দির আব্দুল কাদের এবং মানিকনগরের মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ্। বাকি পাঁচ শহীদের মধ্যে আ ফ ম শাহাবুদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এজিএস ছিলেন। একই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন সৈয়দপুরের মুহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, কাজীকান্দির কাজী নাজির উদ্দিন। সৈয়দপুরের হারুন-অর-রশিদ ছিলেন ঢাকা কলেজের ইংরেজি (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আলীনগরের নজরুল ছিলেন ঢাকা পলিটেকনিক ডিপ্লোমা কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র।

শহীদ মুহাম্মদ শাহজাহানের ছোট ভাই সোহরাব হোসেন বলেন, ‘২২ বছর বয়সে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যান বড় ভাই। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। তখন আমার বয়স ছিল সাড়ে ১১ বছর। আমি দেখেছি আমার বড় ভাই মাছ ধরতে যেতেন।’ তিনি বলেন, শাহজাহান মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কিছুদিন পর এক সকালে তাঁদের বাসার দরজার কাছে একটি চিঠি পড়ে ছিল। সেখানে তাঁর হাতের লেখা রয়েছে—‘মা আমাকে ক্ষমা কোরো, আমি মায়ের ডাকে চলে এসেছি। হয়তো কখনো আর দেখা হবে না। আমাকে ক্ষমা করে দিও আর আমার জন্য দোয়া করিও।’

সোহরাব জানান, সেই চিঠিটি তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন।

১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে কলাতিয়া উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে শহীদ ১১ জনের নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি লোক মারফত যতটুকু জানি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে এই ১১ জন ভারতে যাওয়ার সময় শান্তি কমিটি তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।’ সূত্র: প্রথম আলো।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply