২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১২:১০

নিরাপত্তাঝুঁকিতে ৩০ লাখ পোশাকশ্রমিক!

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সাব-কন্ট্রাক্টিং বা ঠিকাকাজের কারখানার প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করেন। কর্মপরিবেশ উন্নয়নের কোনো কর্মসূচির আওতায় কারখানাগুলো নেই। ফলে এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিরাপত্তাঝুঁকিতে আছেন। ঠিকাকাজের কারখানাগুলো পরোক্ষভাবে রপ্তানিমুখী কারখানার জন্যই পোশাক তৈরি করছে। সেজন্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও বিপদের মধ্যেই আছে।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্নস সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বিয়োনড দ্য টিপ অব দ্য আইসবার্গ: বাংলাদেশিস ফরগটেন অ্যাপারেল ওয়ার্কার্স’ শীর্ষক গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন স্টার্নস সেন্টারের কো-ডিরেক্টর সারাহ লুবোভিৎস ও রিসার্চ ডিরেক্টর দোরোথি বাউমান পাউলি। এ দুই অধ্যাপকের পরিচালনায় কেন্দ্রের একদল ছাত্রী বাংলাদেশের সব পোশাক কারখানাকে একটি মানচিত্রে আনার কাজ করেন।

চলতি মাসে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে কারখানা পরিদর্শন ও শ্রমিক নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। কত পোশাক কারখানা আছে, তার একটি মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য ব্যাপক জরিপ চালান সেন্টারের ছাত্রীরা।

বাংলাদেশে সব মিলিয়ে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানা আছে। এসব কারখানায় কাজ করেন ৪০ লাখ শ্রমিক। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী। কয়েক বছর ধরেই এমন তথ্য দিয়ে আসছিল পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এমনকি সরকারের কাছে ছিল একই তথ্য। তবে স্টার্নস সেন্টারের গবেষণায় ওঠে আসা তথ্য বলছে অন্য কথা।

গবেষণায় পাওয়া গেছে, সারা দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। কারখানার এই সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০ কারখানা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ থেকে ইউডি নেয়, অর্থাৎ সরাসরি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। আর সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ৮০০। তবে এগুলোর অধিকাংশই রপ্তানিমুখী কারখানার জন্য পোশাক তৈরির কাজ করে। সাত হাজার কারখানায় কাজ করেন ৫১ লাখ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানাগুলো থেকেই পোশাক রপ্তানির একটি অংশ আসে। আর এসব কারখানায় কর্মসংস্থানও অনেক। অন্যদিকে গত তিন বছরে সরাসরি রপ্তানিমুখী কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। এর মানে, হয় এসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছে, নতুবা রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো থেকে ক্রয়াদেশের একটি বড় অংশ সাবকন্ট্রাক্টিং কারখানায় চলে যাচ্ছে।

রানা প্লাজা ধসের পর ক্রেতাদের দুই জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স মাত্র ২৭ শতাংশ কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের কাজ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আলাদাভাবে কারখানা পরিদর্শনের কাজ করছে। সব মিলিয়ে তিন পক্ষের ৩ হাজার ৪২৫টি কারখানার পরিদর্শন শেষ হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এলেও সব মিলিয়ে কত শ্রমিক কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতার বাইরে আছে, সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শুধু অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচির বাইরে আছেন ৩০ লাখ শ্রমিক।

সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানাগুলোকে পরিদর্শন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং নিয়মনীতির আওতায় নিয়ে আসার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ জন্য প্রয়োজন কারখানার সুনির্দিষ্ট তথ্য-পরিসংখ্যান। দেশের সব কারখানা খুঁজে পাওয়ার জন্য ৪২ দিন বা দুই মাসের মধ্যেই একটি জরিপ করা সম্ভব।

সুপারিশের তালিকায় আরও আছে, ঠিকাকাজের কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দায়দায়িত্ব বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোকেও নিতে হবে। সব কারখানাকে দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপদ করার জন্য ব্র্যান্ড, বাংলাদেশ ও বিদেশের সরকার, উন্নয়ন সংস্থাকে অর্থায়ন করতে হবে। সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানা উৎপাদনের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে উদ্যোক্তাদের। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে সরকারকে নেতৃত্ব দিতে হবে। কার্টিসি : প্রথম আলো।

Share.

Leave A Reply