ইয়াবাসম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রীর ইয়াবাবিরোধী কর্মসূচি!

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম।।

কক্সবাজারে এক সভায় দল বিচার না করে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শনিবার মন্ত্রীর এই সভায় জেলার অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আবদুর রহমান বদিও ছিলেন, যার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারকারীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলাই বাংলাদেশে ইয়াবা ঢোকার মূল পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য বদি ও তার কয়েকজন স্বজন এই ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করেন বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা এক তালিকায় এসেছে।

সভায় বদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে কেউ ইয়াবা ব্যবসায়ী প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করব।”

তিনি উল্টো দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকরা ইয়াবা পাচারে জড়িত।

“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে বেশি দামের যেসব ইয়াবা উদ্ধার হয়, তা সংশ্লিষ্টরা কম দামের দেখিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিক্রি করেন। আর সাংবাদিকরা ওইসব ইয়াবা ঢাকা-চট্টগ্রাম পাচার করেন।”

২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা তালিকায় কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বদি, তার আপন দুই ভাই ও দুই সৎ ভাইয়ের নাম আসে।

এরপর গত বছরের মার্চে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছিলেন, এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এখনও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুর রহমান বদি সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুর রহমান বদি

ইয়াবা পাচারকারীর তালিকায় নাম রয়েছে, এমন আরও কয়েকজনকে দেখা গেছে কক্সবাজারে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায়।

মন্ত্রী সভায় বলেন, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। যে তালিকাটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয়।

মাদক ব্যবসায় যত বড় ‘গডফাদারই’ জড়িত থাকুন না কেন, সরকার তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

কামাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যেই কথা বলেন সেই ওয়াদা রক্ষা করেন। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নিজ দলের লোকজনের বিরুদ্ধেও সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখেছেন।”

‘দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান ও প্রচারণা মাস’ উদ্বোধন উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিয়ানমার সেদেশে ইয়াবা কারখানা থাকার বিষয়ে বাংলাদেশের দাবি এতদিন ধরে অস্বীকার করলেও এখন স্বীকার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মিয়ানমার তাদের দেশে থাকা ইয়াবা কারখানাগুলো ধ্বংস করার ব্যাপারে কথা দিয়েছে।”

কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক ও হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস সভায় বক্তব্য রাখেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমান।

মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা

মাদকের চোরাচালান ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের লক্ষ্যে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড জানুয়ারি মাসকে দেশব্যাপী ‘মাদক বিরোধী অভিযান ও প্রচারণা মাস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

কক্সবাজার থেকে কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেয়।

পরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সমুদ্রসৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্টের বিয়াম মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সূত্র: বিডি নিউজ।

Share.

Leave A Reply