বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা!

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম।।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘দখল’ করতে গিয়ে পিটুনি খেয়ে পালিয়েছে ‘আসল বিএনপি’ পরিচয়ের একদল লোক। এর আগে কার্যালয়ে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ২ জানুয়াির ২০১৬ শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফকিরাপুল মোড় থেকে জাতীয় পতাকা হাতে কয়েক শ লোক জিয়াউর রহমানের নামে স্লোগান দিতে দিতে বিএনপির কার্যালয়ের দিকে আসেন। মিছিলটি নয়াপল্টনের কড়াই গোশত রেস্টুরেন্টের কাছে এলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের পিটুনির মুখে তাঁরা পালিয়ে যান। এতে একজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘ব্যাপারটা কী কারণে ঘটেছে, জানি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

‘আসল বিএনপি’র নেতা কামরুল হাসান নাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি নিজেকে বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ বেলা সোয়া ৩টার দিকে আমাদের কিছু উজ্জীবিত তরুণ পার্টি অফিসে যাচ্ছিল কথা বলার জন্য। “নাশকতার” অসুখে ধরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির লোকজন তাদের ককটেল চার্জ করে। এতে আমাদের ছয়জন আহত হন।’ এ সময় তিনি নিজে ছিলেন না বলে জানান কামরুল হাসান নাসিম।

তাঁরা কী উদ্দেশ্যে বিএনপির অফিসে যাচ্ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুল হাসান বলেন, সে রকম কিছু না। তাঁরা কিছু কথাবার্তা বলতে চেয়েছিলেন।

কার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে চেয়েছিলেন, এর জন্য বিএনপির কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে কামরুল বলেন, ‘আমাদের পার্টি অফিসে আমরা যাব, কারও সঙ্গে কথা বলে যেতে হবে কেন?’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি সমাবেশে কামরুল হাসান বলেছিলেন, ‘জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালতে’ তাঁরা বিএনপির গঠনতন্ত্র স্থগিতের রায় পেয়েছেন। পরবর্তী ৩৪ দিনের মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে উচ্চ আদালত বসবে। সেখানে বিএনপি সম্পর্কে জনতা পরবর্তী রায় দেবেন।

আজ কি বিএনপির কার্যালয়ের সামনে উচ্চ আদালত বসার কথা ছিল? জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, ‘সে রকম চিন্তা ছিল না। তবে পার্টি অফিসে যাওয়ার উচ্ছ্বাস ছিল। ছেলেরা প্রায় এক ঘণ্টা লড়াই করেছে। তারা ঠেকাতে পারবে না।’

কামরুল হাসান গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শতাধিক লোক নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত’ নাম দিয়ে দুটি কাঠগড়া বানান। এর একটিতে দাঁড়ান কামরুল হাসান নিজে, আরেকটিতে ছিল বিএনপির পাঁচটি ‘অসুখের’ প্ল্যাকার্ড। সেগুলো হলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ, তাঁরা বিদেশি শক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছেন, দলে জনস্বার্থ সংরক্ষণে রাজনীতি নেই, জাতীয়তাবাদী দলটি জামায়াতবাদী দলে পরিণত এবং নাশকতার রাজনীতি বেছে নিয়েছে। এ প্ল্যাকার্ডগুলোর সামনে ছিলেন ওই লোকজন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য।

একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা কামরুল হাসান বাদী হয়ে বিএনপির পাঁচটি অসুখের কথা তুলে ধরে বিচার চান এবং দলটির গঠনতন্ত্র স্থগিতের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত লোকজন হ্যাঁ বলেন। এরপর কামরুল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উচ্চ আদালত বসানোর দাবি করেন। লোকগুলো আবারও হ্যাঁ বলেন।

Share.

Leave A Reply