২০ টাকায় খাসি-খিচুড়ি

ঊর্মি মাহবুব।।

খায়ের পেশায় রিকশাচালক। ভোর পাঁচটায় জীবিকার সন্ধানে রিকশা নিয়ে কমলাপুর বস্তি থেকে বের হন প্রতিদিন। সারাবছর খাটতে হয় রোদ-বৃষ্টি-শীত মাথায় নিয়ে। কষ্ট কম নয়। তাই সকালে পেট পুরে খাওয়া-দাওয়া জরুরি। সাধ-সাধ্য মেলাতে পারেন না সবসময়। খাসির ভ‍ুনা খিচুড়িতো দূরের কথা, চিকন চালের ভাতের আয়োজন করতে গেলেও খায়েরের অনেক কষ্ট করতে হয়।

তবে সামর্থ্য কম থাকলেও সাধ পূরণে তাদের মতো মানুষের জন্য এখনও  আছেন কেউ কেউ। খায়েরর মতো মানুষদের জন্য প্রতিদিন স্বল্পমূল্যে খাসির ভ‍ুনা খিচুড়ির আয়োজন করেন মানিকনগরের মো. সাইদুল ইসলাম।

সাইদুলের খাসির ভুনা খিচুড়ির দাম প্রতি প্লেট মাত্র ২০ টাকা। অনেকটা দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতো হলেও খেতে পান তারা। সাইদুলের খিচুড়ির ক্রেতার বেশির ভাগই রিকশাচালক ও দিনমজুর।

সকাল সাতটা থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত সাইদুল শাপলা চত্বরের বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের আশপাশেই ছোট ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করেন খাসির ভুনা খিচুড়ি।

আগের দিন সন্ধ্যায় ১০ কেজি চিকন চাল ও খাসির কলিজা, গুরদা, ফ্যাপসা অল্প দামে কেনেন বাজার থেকে। পরের দিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে রান্না শুরু করেন সাইদুল ও তার স্ত্রী। ফজরের আজানের কিছুক্ষণের মধ্যেই রান্না শেষ। রান্নার পর ৬টা নাগাদ মানিকনগরের বাসা থেকে খিচুড়ি নিয়ে বের হন সাইদুল। সাতটা থেকে শুরু করেন বিক্রি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তার কারণে স্থান ত্যাগ করতে হয় সাইদুলকে।

প্রতিদিন সকাল থেকে খায়েরের মতো রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা ভিড় জমান সাইদুলের ভ্যানের সামনে। অল্প দামে খিচুড়ি খেতে পেরে খায়েররা যেমন খুশি হন, ঠিক তেমনি খুশি সাইদুলও।

সাইদুল বলেন, আফা বড় ব্যবসা করতে বেশি পুঁজি দরকার হয়। কিন্তু অতো টাকাতো আমার কাছে নাই। এই ছোট একটা ভ্যান ভাড়া নেই কয়েক ঘণ্টার জন্য। আর ১০ কেজি চাল কিনি। ১০ কেজি চালে আমার ৯০ প্লেট খিচুড়ি হয়। এই টাকায়ই আমার সংসার চলে। আমার ছোট দুইটা মেয়ে আছে। তাদের খরচও এই টাকা থেকেই হয়।

আর খায়ের বলেন, ২০ টাকার খিচুড়ি। খাসির মাংস থাকে না ঠিক কিন্তু কলিজা, ফ্যাপসা পাওয়া যায়। খাসির মাংসের গন্ধও থাকে। এখন খাসির ভুনা খিচুড়ি করতে তো অনেক টাকা লাগে। আমরা কি আর তা পারি। তাই আমাদের জন্য এই খিচুড়িই ভালো। গন্ধতেই আমরা খুশি।

Share.

Leave A Reply