কাপড়ের রং মিষ্টিতে, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

Fine_The Dhaka Report

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম।।

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় মিষ্টির দোকানে পাওয়া গেছে লাল, নীল ও বেগুনি রঙের টেক্সটাইল রং। এসব রং কাপড়ে ব্যবহার করা হয়। আর এসব মিষ্টির দোকানে এই রং ব্যবহার করা হতো মিষ্টিকে রাঙাতে।

রাজধানীর তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ৫ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার এসব উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিনটি বেকারি ও মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এপিবিএনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়াই অপরিচ্ছন্ন, নোংরা পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করায় এ জরিমানা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫-এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার এ এস এম হাফিজুর রহমান জানান, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বাউনিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা বেকারি এবং শাহজালাল বেকারি দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ ছাড়াই বেকারি পণ্য প্রস্তুত করছিল।

এসব বেকারিতে নিম্নমানের আটা, ময়দা এবং চিনির পরিবর্তে সোডিয়াম সাইক্লোমেট বা ঘন চিনি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কেক, বিস্কুট ও বেকারি পণ্য বানানো হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এসব বেকারি কারখানায় তেলাপোকা, ইঁদুর, ও বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় দেখা গেছে।

তুরাগ এলাকায় বিক্রমপুর/সৌরভ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায় আরেক ভয়াবহ চিত্র। এ মিষ্টান্ন তৈরির প্রতিষ্ঠানটিতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের লাল, নীল ও বেগুনি রঙের টেক্সটাইল রং। এসব টেক্সটাইল রং মূলত কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠান বনস্পতি দিয়ে খাঁটি গাওয়া ঘি তৈরি করে। যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত উপাদান দিয়ে মিষ্টি, দই, ঘি ও লাড্ডু তৈরি করে আসছিল।

হাফিজুর রহমান আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পর্যবেক্ষণের পর আজ ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এপিবিএন ৫-এর অপারেশন দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিপুল ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট, কেক, ঘি, দই ও মিষ্টি ধ্বংস করা হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী জানান, বিএসটিআই আইন ও ভোক্তা অধিকার আইনে একতা বেকারির মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, শাহজালাল বেকারির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ এবং বিক্রমপুর সুইটসের মালিককে দুই লাখ টাকা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। সূত্র: এনটিভি।

বিভাগ:জাতীয়
বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply