৬ আশ্বিন, ১৪২৪|২৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৮|২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, রাত ১২:১৭

উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এএসপি তাপস ঘোষ, ওসি আকুল বিশ্বাসকে প্রত্যাহার

1452619804_p-9

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম।।

মাদরাসার একজন ছাত্র নিহতের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষুব্ধ তৌহিদী ছাত্র-জনতা ফুঁসে উঠেছে। মিছিল, সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় দিনভর কার্যত অচল ছিল জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। নিহতের ঘটনা এবং জামেয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদরাসায় হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে উত্তেজিত হয়ে উঠে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা। শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, ব্যাংক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। হামলার ঘটনা ঘটেছে থানায়ও। পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গভীর রাতে মাদরাসার গেটের তালা ভেঙ্গে ছাত্রকে হত্যার প্রতিবাদে আজ সারা দেশেডাকা হরতাল সমঝোতা বৈঠকেপ্রত্যাহার করেছে মাদরাসা নেতৃবৃন্দ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সদর মডেল থানার এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ ও সদর মডেল থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের মোবাইল দোকানের সামনে তুচ্ছ ঘটনায় এক মাদ্রাসার ছাত্রকে মারধর করা হয়। তারই জের ধরে কিছু সংখ্যক মাদ্রাসার ছাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে পাল্টা প্রতিপক্ষকে মারধর করে। এ ঘটনায় নিউ মৌড়াইল এলাকার কিছুলোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শহরের টি, এ, রোড এলাকায় তা-ব চালায়। এসময় মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা পুলিশের সাথে এসে মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর হামলা করে এবং দেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে কান্দিপাড়ার মহল্লার লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় প্রায় ৫০/৬০ টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৭৬ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়। তারা এখন গ্রেফতার আতংকে রয়েছে। জামেয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা মোবারক উল্লাহ জানান, গভীর রাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের মূল ফটক ভেঙ্গে প্রবেশ করে। পরে হিফজ বিভাগের ৮টি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে উপস্থিত ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা জুতা ও বুট দিয়ে কোন কোন ছাত্রের মাথা মাটিতে চেপে ধরে। মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমান (২০) কে মাদ্রাসার তিন তলা থেকে লাথি মেরে নীচের রাস্তায় ফেলে দেয়া বলে ঘটনাস্থালে নির্যাতিত হয়েছেন নিহতের এমন সহপাঠীরা জানায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার ছাত্র নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এবং আশপাশ এলাকার তৌহিদী জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলেও সকালে তৌহিদী জনতা ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যাপক উপস্থিতিতে তারা পিছু হটে যায়। সূত্র: ইনকিলাব।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply