পুলিশ তল্লাশী : নগর জীবনে নাগরিকের নিত্য আশঙ্কা

police crimeআইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ ওঠার পর ওই সদস্যকে ক্লোজড বা প্রত্যাহারের সংস্কৃতিকে ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা।

তারা আরো বলছেন, দু’ একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ওই সব সদস্যের বিচারতো হয়ই না বরং আরো ভালো পোস্টিং হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীদের থানা পুলিশের কাছে ধর্না না দিয়ে ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের একটি বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার মাত্রই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে তল্লাশীর নামে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং না দেয়ায় বেড়িবাঁধে ক্রসফায়ারে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অগ্রগতি অভিযুক্ত এসআই মাসুদ শিকদারকে থানা থেকে প্রত্যাহার।

চারদিন পরও শেষ হয়নি তেজগাঁও বিভাগের ডিসির কাছে দায়ের করা রাব্বির অভিযোগের তদন্ত। যেখানে নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং হত্যা চেষ্টার মত ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সেখানে ওই এসআইকে প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় তদন্তের পুলিশী উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্ন উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন ছিল প্রত্যাহার করা অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিচার হওয়ার নজির কেমন?

এই স্বেচ্ছাচারিতা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বির মত ভুক্তভোগীদের সুবিচার দিতে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু আইন। অন্যসব আইনের উপর প্রাধান্য দেয়া এই আইনে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রথমত: এতে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হুমকি দেয়াকেও নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: সুযোগ রাখা হয়েছে সরাসরি দায়রা জজ আদালতে মামলা করার।

তৃতীয়: ভুক্তভোগী কিংবা তার আত্মীয় নয় এমন ব্যক্তি এমনকি যে কোন প্রত্যক্ষদর্শীও এই মামলা করতে পারবেন।

চতুর্থত: এই মামলার তদন্ত করবেন পুলিশ সুপার মর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

এবং পঞ্চমত: মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করতে হবে।

পরিসংখ্যান বলছে আইনটি হওয়ার পরে ৩ বছরে এই আইনে সারা দেশে মামলা হয়েছে মাত্র ২টি। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার জন্যও দায়ি করেছেন পুলিশকে। বলছেন গোলাম রাব্বির ঘটনায় থানা পুলিশের আরো ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।

আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, অপরাধী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে নিরাপত্তা হেফাজতে রাব্বিদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা কমে আসবে।

বিভাগ:ঢাকা
বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply