৩ পৌষ, ১৪২৪|২৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭|রবিবার, সন্ধ্যা ৬:০৭

নিমের যত গুণাগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: নিম একটি ঔষধি গাছ। এর পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকর। নিমের কাঠ খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উঁইপোকা খেতে পারে না। এ কারণে নিম কাঠের আসবাবপত্রও তৈরি করা হচ্ছে আজকাল। নিমের এতসব গুণাগুণের কথা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই গাছটিকে ‌‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ ঘোষণা করেছে।

আসুন জেনে নেই নিমের কিছু ব্যবহারিক উপকারিতা:

কফজনিত বুকের ব্যথা: অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এজন্য ৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। তবে গর্ভবতী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়।

কৃমি: পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রাম নিম গাছের মূলের ছালের গুঁড়া দিন তিনবার সামান্য গরম পানিসহ খেতে হবে।

কুন নাশ: নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগান। ঘণ্টাখানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২/৩ দিন এভাবে লাগালে উঁকুন মরে যাবে।

ডায়রিয়া: পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল- বিকাল খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।

খোসপাঁচড়া: নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাঁচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেঁটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।

পোকা-মাকড়ের কামড়: পোকা মাকড় কামল দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেঁটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হয়।

দাতের রোগ: নিমের পাতা ও ছালের গুঁড়া কিংবা নিমের চাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত। দাঁতের নানা রোগ থেকেও রেহাই মিলবে।

জন্ডিস: বাচ্চাদের জন্য ৫-১১ ফোঁটা, বয়স্কদের জন্য ১ চামচ রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে।

ডায়াবেটিস: ৫টি গোলমরিচ+১০টি নিম পাতা একত্রে সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাবেন।

ওষুধের কৃত্রিমতার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে চলুন মনোযোগী হই সুস্থ থাকবার প্রাকৃতিক উপায়গুলোর প্রতি। আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান। এগুলোর সামান্য ব্যবহারই প্রতিদিন আমাদের রাখতে পারে সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত। নিজে সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন পরিবার ও প্রিয়জনদের।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply