৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, রাত ১২:৪২

আন্ডারওয়াটার মিউজিয়াম!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি: পানির নিচে তো কতকিছুই থাকে। মাছ, গাছ, ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জীব, বালু, মাটি, ডুবে যাওয়া শহর- গ্রাম আর নিকষ কালো অন্ধকার। এসবেরই বাসস্থান সমুদ্রের নীলচে পানির তলায়। কিন্তু কেমন হবে যদি একটা গোটা জাদুঘর তৈরি করা হয় পানির নীচে? অবাক হচ্ছেন তো? আর সত্যিই এমন অবাক করা কাজটি সম্পন্ন করে অবাস্তবকে বাস্তব করার কাজটি করেছে মেক্সিকোর একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। পানির নীচে নির্মাণ করেছে তারা আস্ত একটা জাদুঘর। যেখানে পাকাপাকিভাবে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫০০টি মূর্তিসহ আরো অনেককিছু।

অবস্থান ও ইতিহাস

কানকুন আন্ডারওয়াটার মিউজয়াম হিসেবে পরিচিত এই পানির নীচের জাদুঘরটি বর্তমানে মেক্সিকোর ইসলা মুজেরেস, পুন্টা কানকুন আর পুন্টা নাইজাকের পশ্চিম উপকূলে ন্যাশনাল মেরিন পার্কে অবস্থিত রয়েছে । ২০০৮ সালে প্রথম পর্যটকদের আতিশয্যের চাপে স্থানীয় সৌন্দর্যকে ধ্বংসের মুখে চলে যেতে দেখেন জ্যামি গনজালেজ ক্যানো আর জেসন ডিকেয়ারেস টেইলর। আর তখুনি তারা সিদ্ধান্ত নেন মানবসৃষ্ট একটি জাদুঘর তৈরির। যেটা কিনা কোনভাবেই পানির জীবগুলোর জীবনকে ব্যাহত করবে না। উল্টো মানুষের চাপ থেকে মুক্ত করবে মেক্সিকোর সমুদ্রোপকূলীয় নানা ঐতিহ্যবাহী স্থানকে।

পানির নীচে জন্মানো লতাগুল্মের কথা তো না বললেই নয়। খুব দ্রুত স্থাপত্যকর্মগুলোকে অন্যরকম এক পোশাকে ঢেকে দিচ্ছে তারা।

যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০৯ সালে শুরু হয়ে যায় স্থাপনা। এতে তাদের পাশে এসে আরো দাড়ান রবার্টো ডায়াজ। ধীরে ধীরে নিজের হাতের বুনোটে বোনা গল্পকে পানির নীচের জগতে ছড়িয়ে দেন স্থাপত্যশিল্পী জেসন ডিকেয়ারস টেইলর (বিজনেস ইনসাইডার)।

২০১৩ সাল অব্দি নিজেদের কাজ চালিয়ে যান তারা। নানারকম স্থাপত্যকর্মের পাশাপাশি সাজিয়ে তোলেন জাদুঘরকে বিভিন্ন চিত্রকর্ম দিয়েও। বর্তমানে প্রায় ৫০০ টি স্থাপত্য দিয়ে এ জাদুঘর ভর্তি হলেও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে তাদের। আর এর কারণ হচ্ছে পানির নীচে বাস করা মাছ আর ঢেউ। কখনো পানির ঢেউ নাড়িয়ে যাচ্ছে স্থাপত্যকে, কখনো মাছেরা এসে টুক টুক করে ক্ষয় করে দিচ্ছে এদের। তার সাথে পানির নীচে জন্মানো লতাগুল্মের কথা তো না বললেই নয়। খুব দ্রুত স্থাপত্যকর্মগুলোকে অন্যরকম এক পোশাকে ঢেকে দিচ্ছে তারা। প্রতিদিন নতুন নতুন রূপ দিচ্ছে জাদুঘরটিকে।

কী কী আছে?

কানকুন জাদুঘরটির অবস্থান পানির নীচে হলেও আর দশটা জাদুঘরের চাইতে মোটেও পিছিয়ে নেই এটি। কী নেই এখানে? ভিন্ন ভিন্ন তিনটি গ্যালারী, অনেকগুলো দেখবার মতন স্থাপত্যকর্ম, চিত্রশিল্প আর ১,২০০ টি স্থাপত্যের পথে এগিয়ে যাওয়া ক্রমবর্ধমান অংশ। মোটকথায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে এর পরিধি। শুধু জাদুঘরটি দেখবার আনন্দই নয়, পর্যটকেরা এখানে এসে খুঁজে পাবেন পানির নীচের এক অসাধারণ জীবনকে। যেখানে রয়েছে নিঃস্তব্ধতা আর স্বর্গীয় শান্তি। গ্লাস-বটম বোট বা কাঁচের নৌকার মাধ্যমে যে কোন পর্যটকই ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারবেন এই জাদুঘরটি থেকে। পর্যটক গাইডের পরিসংখ্যান অনুসারে, বর্তমানে প্রতি বছরে প্রায় ৩০০,০০০ জন মানুষ ঘুরে যায় সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ২৮ ফুট নীচে অবস্থিত এই কানকুন জাদুঘরে (ডেইলি মেইল)। সূত্র: প্রিয়।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply