জনগণের ভালোবাসায় অতিষ্ঠ ভারতের পুলিশ!

Indian Police_The Dhaka Report

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

‘আপনাকে খুব ভালোবাসি। আমার সঙ্গে কথা বলুন…’ নারী অথবা পুরুষকণ্ঠে হরদমই এমন ভালোবাসার আকুতিমাখা ফোন আসছে থানায়। ফোন আসছে পুলিশের জরুরি ফোন ১০০ এবং ১০১ নম্বরেও। আর এই ‘ভালোবাসার’ অত্যাচারে দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত থাকছে লাইন। জনগণের আসল সমস্যার খবর এসে পৌঁছাচ্ছেই না পুলিশের কানে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মিরাট নগরীর পুলিশের এই বিপত্তির খবর জানিয়েছে এনডিটিভি। রাজ্যের রোমিও আর জুলিয়েটদের উৎপাতে বিপর্যস্ত মীরাটের পুলিশ বিভাগ।

মীরাটের পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা কেশওয়ান সিং জানান, পুলিশ দপ্তরের জরুরি নম্বরে সারা দিনে অন্তত হাজারটা ফোন আসে। আর এর মধ্যে ৯০ শতাংশ ফোনই আসে ‘ফালতু’। এসব ফোন কল করা হয় কেবল প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে।

কেশওয়ান সিং জানান, দিনের চার ঘণ্টা কনস্টেবলরা দায়িত্বে থাকেন ফোন ধরার। দেখা গেছে‚ ওই সময়েই বেশি আসে অপ্রয়োজনীয় ফোন কল। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীরা ফোন করে কনস্টেবলদের সঙ্গে কথা বলেন। আর পুরুষ কনস্টেবলরাও সহজে ফোন রাখতে চান না।

এই সমস্যা সমাধানে ডেস্কে ফোন ধরার দায়িত্ব দেওয়া হলো নারী কনস্টেবলদের। এবার দেখা দিল উল্টো সমস্যা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোন আসতে থাকল পুরুষদের। নারী কনস্টেবলদের উদ্দেশে এলো অশ্লীল প্রস্তাব।

কেশওয়ান সিং বলেন, এই ধরনের ‘ভালোবাসার ব্যাপারী’ কয়েকজনকে ধরে থানায়ও আনা হলো। সাময়িকভাবে কমলো ভালোবাসার অত্যাচার। কিন্তু কদিন পরে অবস্থা যেই কে সেই! কজনকে শাস্তি দেওয়া যাবে বলুন- সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করেন অতিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি জানান, কখনো কখনো ফোন আসে নাজেহাল বাবা-মায়েদের। দুষ্টু বাচ্চাদের সামলাতে না পেরে ফোন করে বসেন। রিং করে রিসিভার ধরিয়ে দেন বাচ্চাদের হাতে। পুলিশ আঙ্কেল বকে দিলে যদি কমে দুষ্টুমি।

নিয়মিতই এই ধরনের ফোন আসায় বিপদেও পড়েন পুলিশকর্মীরা। কারণ লাইন ব্যস্ত থাকায় ঢুকতে পারে না জরুরি ফোনকল। কয়েকবার জরুরি কল মিস হয়ে যাওয়ায় শাস্তিও পেতে হয়েছে অধঃস্তন পুলিশকর্মীদের। সাসপেন্ড হয়ে থাকতে হয়েছে চাকরি থেকে।

কিন্তু কিছুতেই কমেনি ভালোবাসার ফোনকল। এখনো মাঝরাতে পুলিশের জরুরি ফোন নম্বরে ভেসে আসে ‘রোমিও-জুলিয়েটদের’ আকুতিমাখা ফোন কল- ‘আপনাকে খুব ভালোবাসি। আমার সঙ্গে কথা বলুন…’।

Share.

Leave A Reply