খালেদার ‘ভাবনা জানতে’ তার বাড়িতে বার্নিকাট

Khaleda & Bernicat_The Dhaka Report

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার ‘ভাবনা জানতে’ তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাড়ি ফিরোজায় যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। দেড় ঘণ্টা ধরে তারা আলোচনা করেন।

নির্বাচন বর্জন করে সহিংস আন্দোলনের পর এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসা খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় আদালতের সমন জারির পর এই বৈঠক হল।

বৈঠকের পর বার্নিকাটকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে খালেদা জিয়ার মতামত ও ভাবনা জানতে পারার সুযোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।”

“আমি সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত তুলে ধরতে আহ্বান জানাই,” বলেন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে খালেদার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের জানান, দেশে গণতন্ত্র যে অনুপস্থিত, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ কথা বলার স্বাধীনতার অভাব, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভেতরে অর্থনীতি এসেছে, সমাজনীতি এসেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসেছে। সর্বাগ্রে যেটি এসেছে, সেটি হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি।”

বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “একটি ভোটবিহীন নির্বাচনে একটি সংসদ গঠিত হয়েছে। সেই সংসদের বদৌলতে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে। যেখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই, যেখানে কোনো স্বচ্ছতা নেই।

“এই পরিস্থিতিতে দেশে গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ, তা সম্পূর্ণ যে অনুপস্থিত, তা দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

‘গণতান্ত্রিক অনুপস্থিতির’ বিষয়ে দলের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে মঈন খান বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হয়ে থাকে। আজকেও সেটা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো, সেই বিষয়গুলো আমাদের আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল।”

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, “দেশে গণতন্ত্র যে অনুপস্থিত, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ কথা বলার স্বাধীনতার অভাব, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হতে পারে, যেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকে। আজকে দেশে সেই স্বাধীনতা নেই।।”

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, “মধ্যবর্তী নির্বাচন সেটা সরকার দিতে পারে, কখন তারা দেবে না দেবে, সেটা তাদের বিষয়।

তিনি বলেন, “আমরা বৈঠকে বলেছি আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। সেটা কোনো নির্বাচন হয়নি, সেখানে ৫%-এর কম মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিল। যে সংসদে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়, সেটা কোনো নির্বাচনই হতে পারে না।”

নির্বাচন যত দ্রুত হয়, ততই দেশের মঙ্গল বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

বিভাগ:টপ নিউজ
Share.

Leave A Reply