এবার ডেইলি স্টার বন্ধের দাবি সংসদে

The Daily Star_The Dhaka Report

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

দুদিন আগেই ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি স্টার’ সম্পাদকের শাস্তি দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার পত্রিকা বন্ধ ও সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এনে বিচারের দাবি করেছেন ঢাকার সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম সংসদের নবম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা মনে করি সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। মাহফুজ আনাম সেই পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন। তাঁর সম্পাদক থাকার আর কোনো অধিকার নেই। এই পেশাকে অমর্যাদা করার জন্য তাঁকে সাংবাদিকতা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। তিনি সাংবাদিকতা যেন না করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

তাপস আরো বলেন, ‘ট্রান্সকমের মালিক লতিফুর রহমান। তিনি একজন করাপ্ট (দুর্নীতিগ্রস্ত)। আমরা জানি, বাংলাদেশের অনেকেই জানেন সন্ত্রাসী বাহিনী উলফার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার বিষয়টি। তাঁদের বিরুদ্ধে আশু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে মহান সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করলাম।’

সংবিধানের ধারা তুলে ধরে শেখ ফজলে নূর তাপস সংসদে বলেন, ‘ওনার (মাহফুজ আনাম) কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধানের আর্টিক্যাল ৭-এর উপ-২-এর আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহের আওতায় পড়ে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার আওতায় পড়ে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এনে তাঁর (মাহফুজ আনাম) বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থা করার জন্য মহান সংসদের মাধ্যমে আমি দাবি উত্থাপন করছি।’

তাপস বলেন, ‘এই মিথ্যা গল্প ছাপানোর জন্য আমি মাহফুজ আনামের রেজিগনেশন (পদত্যাগ) দাবি করছি। এই পত্রিকা (ডেইলি স্টার) অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবি করছি। মাহফুজ আনামের মতো লোকেরা অসাংবিধানিক সরকার কায়েম করা এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য সারা জীবনই ষড়যন্ত্র করে গিয়েছেন। এটা আর কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না।’

তাপস বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আটক করার জন্য যে নীলনকশা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে অবৈধ ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকা ডেইলি স্টারে তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের দেওয়া মিথ্যা, বানোয়াট ও দুর্নীতিতে সাজানো গল্প ছাপিয়েছিলেন। মাহফুজ আনাম বলেছেন, ডিজিএফআই যেসব সংবাদ পাঠাত, তার সত্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ডেইলি স্টারের এডিটর থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলো কনফার্ম করেননি। সকল মিথ্যা-বানোয়াট ও সাজানো গল্পগুলো অকপটে সেই ডেইলি স্টারে ছাপিয়েছেন।’

তাপস বলেন, ‘এই মিথ্যা গল্প ছাপানোর জন্য আমি মাহফুজ আনামের রেজিগনেশন (পদত্যাগ) দাবি করছি। এই পত্রিকা (ডেইলি স্টার) অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবি করছি। মাহফুজ আনামের মতো লোকেরা অসাংবিধানিক সরকার কায়েম করা এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য সারা জীবনই ষড়যন্ত্র করে গিয়েছেন। এটা আর কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না।’

জাতীয় সংসদে আজকের অনির্ধারিত আলোচনায় আরো অংশ নেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও মাহফুজ আনামের শাস্তি দাবি করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উল্লেখ করেন, ‘মাহফুজ আনাম, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক স্বীকার করেছেন যে, তিনি আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অপবাদ আরোপ করতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির গল্প ছাপিয়েছিলেন। তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের সমর্থনে আমার মাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এই কাজ করেছিলেন।’

‘একটি প্রধান সংবাদপত্রের সম্পাদক সামরিক বিদ্রোহে উসকানি দিতে যে মিথ্যা সাজানো প্রচারণা চালান তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা’-বলেন জয়।

‘তিনি অব্যাহতভাবে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে তাঁদের অনৈতিকতা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার কথা লেখেন। তাঁর নিজের স্বীকারোক্তি মতে, তিনি নিজেই পুরোপুরি অনৈতিক এবং একজন মিথ্যাবাদী। তাঁর অবশ্যই একজন সাংবাদিক হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নাই, সম্পাদক তো অনেক দূরের বিষয়। তাঁর কার্যক্রম দুর্নীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে; যা দেশপ্রেমহীন এবং বাংলাদেশবিরোধী।’ যোগ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় আরো লেখেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মত, তাঁর মিথ্যা গল্পের উসকানি আমার মাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে এবং ১১ মাস তিনি জেলে কাটিয়েছেন। আমি বিচার চাই। আমি চাই মাহফুজ আনাম আটক হোক এবং তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার হোক।’

বিভাগ:টপ নিউজ
Share.

Leave A Reply