১০ চৈত্র, ১৪২৩|২৪ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৮|২৪ মার্চ, ২০১৭|শুক্রবার, দুপুর ২:০৮

জিকা ভাইরাস রোধে নারীদের বোরকা পরার পরামর্শ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

মশাবাহিত জিকা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। জিকা সংক্রমণের আশঙ্কার মধ্যেই দেশটিতে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাম্বা কার্নিভাল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে দেশটির চিকিৎসকরা চেয়েছিলেন যাতে এবারের উৎসব যেন স্থগিত করা হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ব্রাজিলের কার্নিভাল বন্ধ করা আর যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাস বন্ধ করার মতোই ঘটনা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চিকিৎসকরা নারীদের বোরকা পরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইবোলার পর জিকা ভাইরাস নিয়ে সম্প্রতি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ পর্যন্ত ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জিকা ভাইরাস ছড়াচ্ছে অ্যাডিস মশার মাধ্যমে। আর ব্রাজিলের এই কার্নিভালে স্বল্প পোশাক বিশেষত বিকিনি পরে সাম্বা নাচ, বর্ণিল প্যারেড আর রাতভর পান করাই- এ উৎসবের মূল আকর্ষণ। ৫ দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নেয় কয়েক লাখ মানুষ। পার্শ্ববর্তী ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও লোকজন অংশ গ্রহণ করে এ উৎসবে। তাই শুরুর আগেই চিকিৎসকরা সতর্ক করেছিলেন, এবারের উৎসবে অংশ নেওয়াদের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে।

এবারের উৎসবে ৭০ হাজার নারী ড্যান্সার অংশগ্রহণ করছেন। এসব ড্যান্সাররা স্বল্প পোশাক পরে রাতে রাস্তায় রাস্তায় নেচে বেড়ান। তাদের পুরো শরীরে বিভিন্ন কস্টিউম থাকলেও পরনে তাকে শুধু বিকিনি। আর শরীরের রং করা থাকে। ফলে এসব ড্যান্সারদের জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

Burka 02_The Dhaka Report

এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের রেসিফাই শহরের চিকিৎসকরা উৎসবে অংশগ্রহণকারী নারীদের আহ্বান জানিয়েছিলেন বোরকা পরার জন্য। এছাড়া নারীদের লংস্লিভ শার্ট, গ্লাভস, লম্বা প্যান্ট, মোজা পরারও অনুরোধ তারা জানিয়েছিলেন।

তবে উৎসব শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নেমেছেন সাম্বা ড্যান্সাররা। আজকেই শেষ হওয়ার কথা কার্নিভাল।

শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও সাম্বা কার্নিভাল বন্ধ হওয়ার কথা ভাবতেই পারে না ব্রাজিলিয়ানরা। ব্রাজিলের সমাজবিজ্ঞানী ও কলাম লেখক লুইজ সিমাস বলেন, জিকা ভাইরাস সংক্রমণের সময়েও এই উৎসব পালন করাকে বিদেশিরা অদ্ভুত মনে করতে পারেন। কিন্তু ব্রাজিলের ইতিহাসে দেখা যায়, যখন কঠিন সময় আসে তখন কার্নিভালের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে মানুষ কষ্ট ভুলে নতুন করে লড়াইয়ের প্রেরণা পায়।

অনেক সমালোচক দাবি করছেন, উৎসবকে ঘিরে প্রচুর বৈদেশিক অর্থ ও রাজস্ব আয়ের সুযোগ থাকায় ব্রাজিল সরকার জিকা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। জ্বর, জয়েন্ট পেইনসহ ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এ ভাইরাসের কারণে। আবার তা এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে সেরেও যায়। তবে বিপত্তি তৈরি হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি তথা বিকৃত ও ছোট মাথা নিয়ে জন্ম নিতে পারে শিশু। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

জিকা ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। দেশটিতে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এসব দেশে নারীদের আপাতত গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ল্যাটিন আমেরিকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না জিকা ভাইরাস। ভাইরাসটি নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। সূত্র: মেইল অনলাইন।

Share.

Leave A Reply