১০ চৈত্র, ১৪২৩|২৪ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৮|২৪ মার্চ, ২০১৭|শুক্রবার, দুপুর ২:০৫

ঢাকায় এবার দোতলা ফুটপাত

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

রাজধানীর ফুটপাতগুলো পথচারীবান্ধব নয়। হকারদের দৌরাত্ম্য, বিভিন্ন অস্থায়ী ক্ষুদ্র স্থাপনা ও যাত্রীবিড়ম্বনা ইত্যাদি অকার্যকর করে রেখেছে ফুটপাথগুলোকে। এবার তাই দোতলা ফুটপাত (এলিভেটেড ওয়াকওয়ে) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথম পর্যায়ে গুলিস্তান এলাকায় নির্মাণ করা হবে এই ফুটপাত সড়ক। এরই মধ্যে দোতলা ফুটপাতের সম্ভাব্যতা, নকশা, নির্মাণশৈলীসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বর্তমানে চলছে সেগুলোর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের সংশয় রয়েছে এ পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে। তাদের মতে, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করার বদলে নেওয়া এ উদ্যোগ কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। দোতলা রাস্তাও যে হকাররা দখল করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ অনেক ফুট ওভারব্রিজেও হকারদের দৌরাত্ম্য আছে।’

দোতলা ফুটপাতের দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (টিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব খাদেম দরপত্রে কারা অংশ নিয়েছে, সে সম্পর্কে এ মুহূর্তে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীদের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা ও তাদের পরিকল্পনা দেখে এক মাসের মধ্যেই একটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হবে।

দোতলা এ ফুটপাতে পথচারীদের ওঠানামার জন্য থাকবে এস্কালেটর (চলন্ত সিঁড়ি)। এগুলো থাকবে বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলগুলোতে, যাতে সুবিধাজনক স্থান দিয়ে পথচারীরা দোতলা ফুটপাতে ওঠানামা করতে পারেন।

দোতলা ফুটপাত নির্মাণের স্থান:

প্রথম পর্যায়ে গুলিস্তানে দোতলা ফুটপাত নির্মাণ করে সুফল মিললে আশপাশেও বাড়ানো হবে এর পরিধি। সে ক্ষেত্রে এটিকে পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল, পুরানা পল্টন, কাকরাইল ও দক্ষিণে সদরঘাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

গত ৪ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া ডিএসসিসির বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, প্রথম পর্যায়ে ৩৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের দোতলা ফুটপাতটি শুরু হবে গোলাপশাহ মাজার পয়েন্ট থেকে। সেখান থেকে এটি গুলিস্তান সিনেমা হলের পাশ দিয়ে নবাবপুর রোড সংলগ্ন কাপ্তানবাজারের পাশে অবস্থিত সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। কোথাও রাস্তার পাশ দিয়ে আবার কোথাও সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে তৈরি হবে এই ফুটপাত।

টিইডির প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. মাইনুদ্দিন বলেন, নগরীর অবস্থা বুঝে এর গতিপথ তৈরি হবে। প্রাথমিকভাবে এর প্রশস্ততা ৮ ফুট ধরা হয়েছে। এর উচ্চতা নির্ধারণ করা হবে ফ্লাইওভারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। গোলাপশাহ মাজার এলাকা দিয়ে মৌচাক-কেরানীগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হওয়ার কারণে ওই পয়েন্টে এটি বিদ্যমান ফুটপাতের ওপর দিয়ে তৈরি হবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতকে দখলমুক্ত করার জন্য অনেকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের কয়েক দিন পরই তা আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এলিভেটেড ওয়াকওয়ে বিকল্প হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যমান ফুটপাত দিয়ে গুলিস্তান এলাকার পথচারীদের চলাচলের সুব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। এলিভেটেড ওয়াকওয়ে এবং নিচের ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। বলতে পারেন, পাইলট প্রকল্প এটা।’

যেভাবে পরিকল্পনার শুরু:

কিছুদিন আগে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন ও ক্লিন এয়ার সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (কেইজ) প্রকল্পের পরিচালক সেহাব উল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দোতলা সড়ক দেখতে পান। তখনই সেহাব উল্লাহকে এ বিষয়ে ভাবার পরামর্শ দেন মেয়র। এর পর সেহাব উল্লাহ এ নিয়ে অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, থাইল্যান্ডের ব্যাংককসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যস্ততম শহরে এ ধরনের এলিভেটেড ওয়াকওয়ে আছে। এর ধরন ফুট ওভারব্রিজের বড় সংস্করণ বা অনেকটা সরু ফ্লাইওভারের মতো। যাতে অন্তত চারজন লোক পাশাপাশি হাঁটতে পারে।’

নির্মাণ ব্যয়:

ডিএসসিসির প্রকৌশলীরা জানান, ৬০ ফুট প্রশস্ত একটি ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করতে ব্যয় হয় সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতি কিলোমিটার ফ্লাইওভার তৈরিতে খরচ হয় ৮০-৯০ কোটি টাকা। দোতলা ফুটপাতের ক্ষেত্রে খরচের অনুপাত উভয়ের চেয়ে অনেকটাই কম হবে। রোদ-বৃষ্টি থেকে পথচারীদের রেহাই দিতে এর ওপরে সিমেন্ট বা প্লাস্টিকের রঙিন ছাউনিও থাকতে পারে। দু’পাশে থাকবে স্টিলের বেষ্টনী (রেলিং)। পথচারীরা যাতে চলাচলে স্বস্তি বোধ করেন, সেজন্য বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এ রেলিং ঘেঁষে।

পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়:

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যখন দোতলাও হকারদের দখলে চলে যাবে, তখন কি তৃতীয় তলায় আরেকটি ফুটপাত তৈরি করা হবে?’ তিনি বলেন, ‘এ রকম দোতলা ফুটপাত করতে হলে পুরো এলাকা নিয়ে একটি এলিভেটেড ওয়াকওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। ব্যাংককের সুকুম্বিতের ওয়াকওয়ে মনোরেলের পিলারের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি মনোরেলের যাত্রীদের অধিক সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। যাত্রীরা মনোরেল থেকে নেমে ওয়াকওয়ে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্থানে নেমে যান।’ তিনি জানান, এ ধরনের পরিকল্পনা করার আগে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। কেন করতে হবে, করলে কী উপকার পাওয়া যাবে, ক্ষতির কোনো দিক আছে কি-না, এসব ভাবা প্রয়োজন। কার্টিসি: সমকাল।

Share.

Leave A Reply