৩ পৌষ, ১৪২৪|২৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭|রবিবার, সন্ধ্যা ৬:০৬

সিরিয়া অভিযান পরিচালনায় তুরস্কে সৌদি সেনা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

সিরিয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালাতে তুরস্কের ইনসিরলিক সামরিক ঘাঁটিতে সেনা সদস্য ও যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে সৌদি আরব। শনিবার সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাককে দেওয়া এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। আর ওই খবরের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। সিরিয়ায় বিদেশি সেনা পাঠানো হলে তা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে রুশ প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর এমন খবর জানালো তুরস্ক।

এরইমধ্যে ইনসিরলিকের উদ্দেশে যুদ্ধবিমান ও সেনা সদস্য পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মেভলুত। তবে এ সেনা সদস্যদের সংখ্যা কত, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।

মেভলুত বলেন, ‘আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে সৌদি আরব দৃঢ় সংকল্পববদ্ধ। সেনা সদস্য আর যুদ্ধবিমান পাঠানোর জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে তারা। আইএসবিরোধী জোটের প্রত্যেকটি বৈঠকেই আমরা ফলকেন্দ্রিক কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দিয়ে থাকি। আর এ ধরনের কৌশল নির্ধারণ করা গেলে তুরস্ক আর সৌদি আরব মিলে অভিযান শুরু করতে পারে।’

সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেভলুত। রাশিয়ার বিমান হামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ আইএসকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগ, রাশিয়া আইএসবিরোধী অভিযানের কথা বলে মূলত আসাদ সরকারকেই সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

‘রাশিয়ার লক্ষ্য হলো আসাদকে সুরক্ষা দেওয়া। আমরা সবাই সেটা জানি। তবে প্রশ্ন হলো রাশিয়াকে কে থামাবে?’

আসাদের বিরোধী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও তুরস্কও রয়েছে। তুর্কি অভিযান কেন্দ্রের মাধ্যমে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে দেশ দুটো।

মেভলুত বলেন, ‘রাশিয়ার লক্ষ্য হলো আসাদকে সুরক্ষা দেওয়া। আমরা সবাই সেটা জানি। তবে প্রশ্ন হলো রাশিয়াকে কে থামাবে?’

এদিকে, জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়ার হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ভবিষ্যতে বাশার আল আসাদ বলে কেউ থাকবেন না।’

সৌদি আরব সন্ত্রাসবাদের আওতায় যাদের নাম রেখেছে তা অনুসরণ করলে পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্ডিপেনডেন্ট। কারণ সৌদি আরবের সন্ত্রাসী তালিকায় নাম রয়েছে কুর্দি যোদ্ধাদেরও। আর এ কুর্দি যোদ্ধারা সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

এদিকে, সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সৌদি সরকারের প্রস্তাবের পর তা নিয়ে ক্ষোভ জানান রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। সিরিয়ায় বিদেশি সেনা পাঠানো হলে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। বৃহস্পতিবার একটি জার্মান দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর সেনারা প্রস্তুত রয়েছে। এমন খবর প্রকাশের পর এ হুঁশিয়ারি দেন রুশ প্রধানমন্ত্রী।

দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, প্রকৃতপক্ষে স্থল অভিযান মানে যুদ্ধে সবার অংশগ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের অংশীদারদের এ বিষয়ে অবশ্যই জোর দিয়ে চিন্তা করতে হবে, তারা কি স্থায়ী যুদ্ধ চান?

সিরিয়ায় রুশ অভিযানে সহযোগিতা না করায় পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেন মেদভেদেভ।

রুশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিরিয়ায় খুব দ্রুতই চলমান যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যাবে না। কারণ সেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সংঘাত অবসানের জন্য উভয় পক্ষের ওপর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টি করা উচিত। স্থল সেনা না পাঠিয়ে সবার উচিত সিরিয়া সংঘাত অবসানের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা।

এর আগে সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনা পাঠানোর বিষয়ে সৌদি প্রস্তাবকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার। আর এর বিরোধিতা করে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব সেনা পাঠালে তারা শুধু কাঠের কফিন ভর্তি লাশ পাবে। ইরান বলেছে, সৌদি আরব সিরিয়ায় সেনা পাঠালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘণ্টাধ্বনি বেজে উঠবে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

এ সংক্রান্ত আরও খবর:

সিরিয়ায় বিদেশি সেনা পাঠালে বিশ্বযুদ্ধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

Share.

Leave A Reply