মুস্তাফিজ প্রেশার নেওয়ার ছেলে না: মাশরাফি

The_Dhaka_Report_Cricket

স্পোর্টস ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

গতবছর ভারতকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে আবির্ভাব মুস্তাফিজের। ছোট্ট ক্যারিয়ারে এরপর বিস্ময় উপহার দিয়েছেন আরও কয়েকবার। এই কদিনেই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র।

ওই সিরিজের পর এই প্রথম ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। বুধবার এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আবার কোহলি-রোহিতদের বিপক্ষে বোলিং করবেন মুস্তাফিজ। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজকে স্তুতিতে ভাসান ভারতীয় ব্যাটিং তারকা বিরাট কোহলি।

মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনেও বারবার ঘুরে ফিরে এলো মুস্তাফিজের প্রসঙ্গ। পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেকে মুস্তাফিজ এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, তরুণ এই পেসারের কাছে ভালো বোলিংটা প্রত্যাশিত সবসময়ই। তবে প্রতিপক্ষ ভারত বলেই এবার আলোচনা আরও বেশি।

প্রত্যাশার এমন ভারে মুস্তাফিজের তরুণ কাঁধ জোড়া নুইয়ে পড়ার শঙ্কা থাকেই। তাকে নির্ভার রাখার বড় দায়িত্বও অধিনায়কের। তবে কাজটাকে একটুও কঠিন মনে করছেন না মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়ক যে শঙ্কাটাই দেখছেন না!

“একটা সুবিধা হচ্ছে মুস্তাফিজ এগুলো সম্পর্কে কিছুই জানে না। ওকে নিয়ে যত কথা হচ্ছে, সেগুলো ও কিছুই কানে দেয় না। আর জানলেও এগুলো নিয়ে চিন্তা করে না। আমি শতভাগ নিশ্চিত। ওকে নির্ভার রাখার কিছু নেই। কারণ ও প্রেশার নেওয়ার ছেলেও না। এটা ওর জন্মগত পাওয়া।”

মাশরাফি জানালেন, মাঠের বাইরে ক্রিকেট বা ক্রিকেটের আলোচনা সামান্যই ভাবায় মুস্তাফিজকে।

“ওকে নিয়ে বেশি আলোচনা চাপ হতে পারে বলে কথা হচ্ছে; সে সম্পূর্ণ বিপরীত। এসব চিন্তার পুরো বাইরে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই বাইরে আলোচনা করলে ওগুলো নিয়ে মাথা ঘামায়, চিন্তা করে। মুস্তাফিজ সম্পূর্ণ উল্টো। ক্রিকেট মাঠে বোলিং করে, ম্যাচ খেলার পর ক্রিকেট নিয়ে ওর কোনো কথা নেই। খেয়ালও করে না যে ওকে নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে কী হচ্ছে না।”

এবার অবশ্য মুস্তাফিজকে নিয়ে অনেক সতর্কই থাকবে ভারত। প্রথম দেখার বিস্ময়ের ধাক্কা থাকবে না। ভারতসহ সব দল মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে কাঁটাছেড়া যথেষ্টই করেছে। মুস্তাফিজের চ্যালেঞ্জটা তাই আরও কঠিন এবার।

মাশরাফির অবশ্য বিশ্বাস, মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে বিশ্লেষণ করেও খুব বেশি লাভ হবে না।

“ওর যে স্লোয়ারটা আছে, যেটা আমরা বলি কাটার, ও সেটা কয়েকভাবে করতে পারে। ম্যাচের আগে মুস্তাফিজ কখনোই কোনো ব্যাটসম্যান কিংবা কোনো দল নিয়ে চিন্তা করে না। নিজের যে বলগুলো আছে, সেগুলোতে ওর বিশ্বাস থাকে। ব্যাটসম্যান কি করবে, সেটা চিন্তা করে না। এটা ওকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। যুদ্ধে জয়ী করে দেয়। ওকে নিয়ে আপনি হোম ওয়ার্ক করতে পারেন, তার পরও ওকে সামলানো খুব কঠিন হবে।”

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply