গায়ের জোরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী!

UP Election 2016_The Dhaka Report

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন যে ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে, তার মধ্যে ২৩টিতেই ‘গায়ের জোর’ খাটানোর তথ্য মিলেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের ক্যাডাররা প্রকাশ্যেই প্রতিপক্ষ বিএনপি অথবা নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে, কোথাও বা হুমকি-ধমকি দিয়ে তাঁদের বসিয়ে দিয়েছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জোর খাটানোর ঘটনাগুলো ঘটেছে নীরবে, যে কারণে লিখিতভাবে কেউ কোনো অভিযোগ দাখিল করেননি। তবে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সেসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনও কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার কথা বলেন। এ ক্ষেত্রেও নির্বাচন থেকে পিছু হটা প্রার্থীরা প্রচ্ছন্ন ভয়ের কথা জানিয়েছেন।

অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভায়রা সিদ্দিক:

বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ভায়রা। সেই সুবাদে সিদ্দিকুর রহমান ‘ভায়রা সিদ্দিক’ নামে বেশি পরিচিত। তিনি সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে মারধর করে ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের পথে আটকে দুজনের মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুই প্রার্থীর অভিযোগ, সে কারণেই তাঁরা ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে এই ইউনিয়নে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভায়রা সিদ্দিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে। মারধর করায় বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ শরিফসহ বেশ কয়েকজন হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন।

আবদুল আজিজ শরিফ অভিযোগ করেন, ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলের দিকে তিনি সদর ইউএনও কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় এমপি শম্ভুর বাড়ির সামনে ১০-১২ জন যুবক তাঁকে আটকায়। একপর্যায়ে তাঁকে রাস্তার ওপর ছিটকে ফেলে ওই যুবকরা তাঁর হাতে থাকা মনোনয়ন ফরম নিয়ে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন। তখন যুবকরা তাঁকে কিল-ঘুষি মারে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর স্বজনদেরকেও ওই যুবকরা মারধর করে। পরে তারা মনোনয়ন ফরমটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আবদুল আজিজ শরিফ, তাঁর ভাইয়ের ছেলে সোহেল শরিফ ও বেয়াই সালাম শরিফকে আহত অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাউসার ইকবাল মাহবুব অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি তাঁর দুই সমর্থককে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পাঠালে ইউএনও কার্যালয়ের ফটকে তাদের দুজনকে কয়েক যুবক আটকে দেয়। একপর্যায়ে মনোনয়ন ফরমটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় ভায়রা সিদ্দিকের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক।

অভিযোগ অস্বীকার করে সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বা আমার কোনো কর্মী-সমর্থক এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’ প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব তারা নিজেরা ঘটিয়ে আমার ওপর দায় চাপাচ্ছে।’

বরগুনা সদর থানার ওসি মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা ছিল। সেখানে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাইরে ঘটতে পারে। তবে আমাদের কাছে কেউ এ রকম অভিযোগ করেনি।’

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আলফাজ উদ্দীন শেখ বলেন, ‘আমার কার্যালয়ের আশপাশে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমাদের কাছে যারা এসেছে আমরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা নিয়েছি। চেয়ারম্যান পদে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্দিকুর রহমানের মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন।’

হুমকি-হামলায় পিছু হটা:

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৬ নম্বর সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে না দেওয়ার জন্য আগে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রবিবার তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ খবর জানতে পেরে ওই দিন বিকেলে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর করে। তিনি প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। সোমবার দুপুরে তিনি মনোনয়নপত্রটি তাঁর এক সমর্থকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার জন্য পাঠালে ওত পেতে থাকা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন উপজেলা নির্বাচন অফিসের গেট থেকেই সেটি কেড়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি খারাপ উল্লেখ করে তিনি তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন নিয়ে বেশি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

কলারোয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় বিএনপি মনোনীত কোনো চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ভোটের আগে জয় পেতে আওয়ামী লীগের লোকজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে জমাদান পর্যন্ত নির্বাচন অফিস ঘিরে রেখে প্রার্থীদের ওপর হামলা করে কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে মামলার ভয় দেখানোসহ হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। সেখানে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী না থাকায় ভোটের আগেই তাদের প্রার্থী জোর করে জয়ী হয়েছে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবসায়ী। জয়ী হওয়ার জন্য তিনি আগে থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপকেই টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেন। এ ছাড়া যুবলীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন সময় তাঁর কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় ওই ইউনিয়নে দলের কেউ বিদ্রোহী হতে পারেনি। স্থানীয় থানা পুলিশও তাঁকে সহায়তা করছে। সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের সবাই মিলে সোনাবাড়িয়ায় ‘বিএনপি ঠেকাও’ নীতি অবলম্বন করে কড়া পাহারায় থাকায় বিএনপির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু এসব ঘটনার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে দায়ী করেছেন। তিনি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

তবে সোনাবাড়িয়া ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমাদানে কাউকে হুমকি বা বাধা দেননি। কেউ যদি কোনো কারণে মনোনয়নপত্র জমা না দেন তবে তার দায় তিনি নিতে রাজি নন।

ভয়ে ঘরবন্দি:

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরণ অভিযোগ করেন, জৈনসার ইউপি নির্বাচনে দলের পক্ষে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিনকে। কিন্তু আগে থেকে তাঁকে আওয়ামী লীগের লোকজন নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন তাঁর বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী পাহারা বসিয়েছিল, যাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে পারেননি। বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকসহ সরকারি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর তিন-চার শ লোক আমার বাড়ির সামনে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। আমি ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি বলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরণকে জানালে তিনি আমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে তিনি আর আসেননি। তাই এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযোগও দিতে পারিনি প্রশাসনের কাছে।’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম দুদু বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি পর পর তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আমার জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে বিএনপি বা অন্য কেউ এখানে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে সাহসই পায়নি।’

উপজেলা রিটার্নিং অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘যদি কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করত তবে আমরা ওই প্রার্থীকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবার ব্যবস্থা করতাম।’

মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলা:

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েই সিদ্দিকুর রহমান প্রতিপক্ষ দমনে মরিয়া হয়ে ওঠেন। অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে নিষেধ করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে। এর পরও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বাদশা সিকদার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়পত্র জমা দিতে নিষেধ করে এবং দিলে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়। তবু ২২ ফেব্রুয়ারি ঝুঁকি নিয়ে বাদশা সিকদারের পক্ষে তাঁর ছেলে আল-আমিন সিকদার ও ভাগ্নে মো. শাহীন মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য যান। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের মারধর করে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে তা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা হয়। খবর পেয়ে মনোনয়নের ফটোকপি নিয়ে বিকেলে বাদশা সিকদার নিজেই ছুটে যান উপজেলা পরিষদে। এ সময় তাঁর ব্যাগে থাকা মনোনয়নপত্রের ফটোকপিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

বাদশা সিকদার অভিযোগ করেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্নু তালুকদার, যুবলীগকর্মী মনোয়ার হাওলাদার, তার ভাই আনোয়ার হাওলাদার ও রাজ্জাক হাওলাদার এলাকায় প্রচার করেছে, আমি মনোনয়নপত্র জমা দিলে এলাকায় থাকতে দেবে না। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কথামতো তারা লোক ভাড়া করে এনে আমার মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়; আমার ছেলে ও ভাগিনাকে মারধর করে। তাদের ভয়ে আমি ঘর থেকে বেরও হই না।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি, কাউকে দাখিলে বাধা দিইনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না, এটা আমিও বুঝতে পারিনি।’

রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহামুদ আলম জমাদ্দার বলেন, ‘আমার কাছে নাচনমহল ইউনিয়নে শুধু আওয়ামী লীগের মনোনীত একজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অন্য কেউ দাখিল করেননি, কারো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও আসেনি।’

বাগেরহাটে ভয় দেখিয়ে ১৯ অপ্রতিদ্বন্দ্বী:

বাগেরহাটের ৭৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হুমকি-ধমকির কারণেই তাদের প্রার্থীরা মানোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দুই দিন আগে থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা বিএনপি প্রার্থীদের নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। নির্বাচনে দাঁড়ালে এলাকাছাড়া করা এবং দেখে নেওয়া হবে এমন হুমকিতে দলীয় প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত জেলার ২৭টি ইউনিয়নে তাঁদের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। তিনি বলেন, সোমবার সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর, গোটাপাড়া ও কচুয়া উপজেলার গজালীয়া থেকে তাঁদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছেও তিনি লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি ইউনিয়নের যুবদল নেতা আবুল কালাম বাদল অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান পদে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে পারেননি।

আওয়ামী লীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী অশোক কুমার বড়াল বলেন, ১৭ বছর ধরে তিনি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৮ সালে উপজেলা নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গোটা উপজেলাবাসীর সেবা করেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে অন্য কেউ হয়তো প্রার্থী হয়নি। তাঁর কোন সমর্থক কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেয়নি বলে তাঁর দাবি।

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শারাফত হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য সোমবার উপজেলা সদরে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাসীরা উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তার ওপর থেকে ওই মনোনয়নপত্র ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। ফলে তাঁর আর নির্বাচনে দাঁড়ানো হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শংকর কুমার চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ালে জামানত হারাতে হতে পারে এমনটি মনে করে হয়তো কেউ প্রার্থী হয়নি। কোনো প্রার্থীকে তাঁর কোনো সমর্থক হুমকি দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, তাঁর পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া ছিল যে কোনো প্রার্থী যদি কোনো কারণে অফিসে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারেন সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের প্রতিনিধি গিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কার্টিসি: কালের কণ্ঠ।

Share.

Leave A Reply