৪ কার্তিক, ১৪২৪|২৮ মুহাররম, ১৪৩৯|১৯ অক্টোবর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, দুপুর ২:৫৮

হাতে হাতে বই

Book Fair_The Dhaka Fair

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

দৃশ্যটা মন ভালো করার মতো। দলবেঁধে মানুষ আসছে বইমেলায়। গল্পগুজব করতে নয়, বই কিনতে তাদের এ আগমন। যারা এসেছিলেন খালি হাতে, তারা ফিরছেন ব্যাগভর্তি বই নিয়ে। মাসব্যাপী মেলার অর্ধেক সময় শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন সাধারণ দর্শনার্থীদের চেয়ে প্রকৃত পাঠকই আসছেন বেশি। তারাই ভিড় জমাচ্ছেন মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

মঙ্গলবার মেলায় প্রবেশ করতেই দেখা গেল, লোকজন ইতস্তত ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে স্টলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে নতুন-পুরনো বই যাচাই-বাছাই করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। যেমন ওয়ারী থেকে এসেছিলেন সৌমিক। গত কয়েক দিন বন্ধুর জন্য স্টলে স্টলে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন নতুন বইয়ের তালিকা। অবশেষে সোমবার বাগেরহাট থেকে এসেছেন বন্ধু রোহান। তাকে নিয়েই ঘুরছিলেন আর কিনছিলেন নতুন বই। সৌমিকের মতো রাজধানীবাসী আর রোহানের মতো মফস্বলবাসীর সরব পদচারণায় এখন মুখর বইমেলা প্রাঙ্গণ। গত কয়েক দিন ঘুরে ক্যাটালগ সংগ্রহ করে পাঠক এখন মেলায় ভিড় জমিয়ে বই কিনে ঘরে ফিরছেন বলেই জানালেন প্রকাশকরা।

সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদ বলেন, ‘বই দেখার পালা বোধ হয় শেষ। এখন কেনার পালা শুরু।’ ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশের আদিত্য অন্তর বলেন, বইমেলার ‘হানিমুন পিরিয়ড’ এখন শেষ। এখন প্রকৃত পাঠক আসছেন। যারা আসছেন, তাদের বেশির ভাগই বই কিনে ফিরছেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করলেন অন্বেষা প্রকাশনের শাহাদাত হোসেন। তিনি বললেন, এখন শুধু বই বিক্রির সময়।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল গনি বলেন, ‘আগেও বেশ কয়েক দিন মেলায় এসেছিলাম। ঘুরে ঘুরে ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছি। ভিড়ও ছিল অনেক। এখন ইচ্ছামতো বই খুঁজছি ও কিনছি।’

মেলায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই কানে এলো লালনের গান। গাইছিলেন চুয়াডাঙ্গার দুই বাউল আলম ও রাসেল। বললেন, মেলায় এত মানুষ দেখে গান গাওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারেননি তারা। তারা গাইলেন ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’, ‘তিন পাগলে হইল মেলা’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’সহ বেশ কয়েকটি গান।

Share.

Leave A Reply