গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ পুরো পরিবার, দুই ভাইয়ের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

নতুন ভাড়া বাসায় চলছিল পাঁচ সদস্যের সংসারের গোছগাছ। কিন্তু গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণে শুধু সংসারই নয়, তছনছ হয়ে গেল পুরো পরিবারটিই। গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণের পর আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে দুই সন্তান। অগ্নিদগ্ধ গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রী ও অপর সন্তান যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বিছানায়।

গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলার এক ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটটিতে কয়েক দিন আগে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ওঠেন মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ (৫০)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর মারা গেছে তাঁর বড় ছেলে সারলিন বিন নেওয়াজ (১৫) ও ১৪ মাস বয়সী ছোট ছেলে জায়ান বিন নেওয়াজ। বিকেল পাঁচটায় সারলিন ও এর দেড় ঘণ্টা পর জায়ান মারা গেছে। সারলিন উত্তরা রাজউক মডেল স্কুল ও কলেজে দশম শ্রেণির ছাত্র।

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনজন হলেন শাহনেওয়াজ, তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া (৩৫) ও মেজো ছেলে জারিফ বিন নেওয়াজ (৯)। চিকিৎসকেরা বলেছেন, গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মুন্নী মমতাজ বলেন, চারজনেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শাহনেওয়াজের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও তাঁর স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়েছে। সারলিনের ৮৮ শতাংশ ও জায়ানের শরীরের ৭৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। জারিফের পুড়েছে ৬ শতাংশ। তার অবস্থা তুলনামূলক ভালো।

শাহনেওয়াজের ফুফাতো বোন আরমিন নিশাত বার্ন ইউনিটে সাংবাদিকদের বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ভাড়া করা এই ফ্ল্যাটে ওঠেন শাহনেওয়াজ। গতকাল ভোরে তিনি ফজরের নামাজ পড়তে উঠেছিলেন। এরপর ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে খাবার ঘরে পায়চারি করছিলেন। তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া এ সময় রান্নাঘরে যান। সারলিন ও জারিফ তখন নিজেদের ঘরে ঘুমাচ্ছিল। রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা ধরাতে দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরই এ অবস্থা।

আরমিন নিশাত বলেন, ‘হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আমার ভাই বলেছে, “আপা, আমারে আগুন ধাক্কা দিয়েছে।” বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিক হওয়ার কথা বলেছিলাম কিন্তু ব্যবস্থা নেয়নি।’

শাহনেওয়াজের ভাগনে নাজমুস সাকিব বলেন, ফ্ল্যাটটিতে ওঠার পর গ্যাসজাতীয় গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি তাঁর মামা বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন। গত বৃহস্পতিবারও একই অভিযোগ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল ভবনটির মালিক দেলোয়ার হোসেনের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শাহনেওয়াজের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ হয়। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে বা বাড়িটি বোধ হয় ভেঙে পড়ছে। ঘরের দরজা খুলে দেখা যায়, পাশের ফ্ল্যাটে আগুন ধরেছে। ছটফট করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে লোকজন বের হয়ে আসছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিতে না পারায় অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাড়িটির অপর কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বের হওয়ার সময় অন্য ফ্ল্যাটগুলোর দরজা ধাক্কা দেন শাহনেওয়াজ। ফ্ল্যাটগুলোর দরজায় পোড়া চামড়ার ছিন্নভিন্ন অংশ লেগে ছিল।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও খাবার ঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্লাস্টিকের জিনিস ও অন্যান্য জিনিস পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা আতিকুল আলম চৌধুরী বলেন, গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকলেও পাইপের কোনো অংশে হয়তো লিক ছিল। দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। এ কারণে চুলা ধরাতে গিয়ে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার কারণ সম্পর্কে বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কার্টিসি: প্রথম আলো।

বিভাগ:জাতীয়
Share.

Leave A Reply