৪ কার্তিক, ১৪২৪|২৮ মুহাররম, ১৪৩৯|১৯ অক্টোবর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩:০৬

আজ খেয়ে ফেললেই ফাইনালে মাশরাফিরা

Bangladesh Vs Pakistan CRICKET DHAKA ASIA CUP The Dhaka Report dot com

 

স্পোর্টস ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:দুটি দুঃসংবাদ। একটা অনেক বড়, আরেকটা ছোট। বড়টা জানা গিয়েছিল আগের দিনই, ছোটটা কাল। মুস্তাফিজুর রহমানের পর নাকি হালকা চোটে পড়েছেন মাহমুদউল্লাহও। মুস্তাফিজের চোট পাঁজরে আর মাহমুদউল্লাহরটা পিঠে। মুস্তাফিজ তো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তবে মাহমুদউল্লাহর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা কাল রাত পর্যন্তও ছিল। আজ সারা দিনে ব্যথা কমে গেলে হয়তো তিনি খেলবেন। আবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে থাকতে পারেন মাঠের বাইরেও। এশিয়া কাপের ফাইনালে যে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশকেই লাগবে!
ফাইনাল! পাকিস্তানের বিপক্ষে আজকের অলিখিত সেমিফাইনাল জেতার আগেই এই স্বপ্ন দেখা কি ঠিক হচ্ছে? ব্যাপারটা নিয়ে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট হলে মাশরাফি বিন মুর্তজার ভোট ‘হ্যাঁ’র বাক্সেই পড়বে। কাল মিরপুরে অনুশীলনের আগে ফাইনাল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠও বেশ প্রত্যয়ী শোনাল, ‘আমাদের সামনে আসলেই ফাইনাল খেলার খুব ভালো সুযোগ আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই সুযোগটা কাজে লাগানো যাবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক অতীতও হাওয়া লাগাচ্ছে আশার পালে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দুই সংস্করণেই সর্বশেষ সাফল্য বাংলাদেশের। গত বছর এপ্রিলে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে জিতেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। তার ঠিক আগেই তিন ওয়ানডের সিরিজে তো ধবলধোলাই-ই হয়েছে আজহার আলীর পাকিস্তান। তবে মাশরাফি অতীতাশ্রয়ী আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাস করেন না। নতুন দিনে নতুন কিছু করতে হবে, এই তাঁর দর্শন, ‘মনে হয় না পুরোনো জিনিসগুলো খুব একটা সাহায্য করবে। নতুন দিন, নতুন খেলা, নতুন টুর্নামেন্ট। আগে কী হয়েছে, তা না ভেবে কাল (আজ) আমরা কতটা ভালো শুরু করতে পারি, তা নিয়েই ভাবছি।’
তা মাশরাফি শুধু বর্তমান নিয়ে ভাবলেও আজকের ম্যাচের আগে বাংলাদেশই সুবিধাজনক অবস্থায়। মিরপুরে পাকিস্তানকে হারালেই এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে যাবেন মাশরাফিরা। হেরে গেলেও ক্ষীণ একটা সম্ভাবনা ঠিকই বেঁচে থাকবে। হঠাৎ চোট হানা দেওয়ার পরও বাংলাদেশ দলে কিছুটা হলেও স্বস্তির সুবাতাস দিচ্ছে তামিম ইকবালের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে পাওয়ার পর ওপেনিং নিয়ে আর চিন্তার কিছু দেখছেন না কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। মোহাম্মদ মিঠুন খেললে সৌম্য সরকার চলে যেতে পারেন চার নম্বরে। মিঠুন না খেললে ওপেনিংয়েই নামবেন। তবে সঙ্গী যে-ই হোন, ওপেনিংয়ে তামিমের থাকাটা নিশ্চিত। সঙ্গে সৌম্য-মিঠুন দুজনই খেললে হয়তো কিপিং গ্লাভস জোড়া আবারও মুশফিকের হাতে তুলে দিয়ে দলের বাইরে চলে যাবেন নুরুল হাসান। পিঠের ব্যথার কারণে মাহমুদউল্লাহকেও শেষ পর্যন্ত পাওয়া না গেলে অবশ্য অদলবদলের সমীকরণ অন্য রকমও হতে পারে। তবে মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে একটা পরিবর্তন নিশ্চিত। পাঁজরের চোটে পড়া বাঁহাতি পেসারের জায়গা নেবেন নাসির হোসেন অথবা আরাফাত সানি। কোচ কাল চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ায় আবু হায়দারের কোনো সুযোগ দেখা যাচ্ছে না।
প্রথম দিনে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের সবুজ উইকেট এই কদিনে অনেকটাই ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকেছে। তারপরও টুর্নামেন্টজুড়ে মোহাম্মদ আমিরের যা পারফরম্যান্স, পাকিস্তানের এই পেসারকে ভয় না পেয়ে উপায় নেই। মাশরাফির ভাষায়, ‘সব ধরনের বোলিং করার ক্ষমতা আছে তাঁর।’ হাথুরুসিংহের সনদ তো আরও মর্যাদাপূর্ণ, ‘আমির বিশ্ব ক্রিকেটেরই উজ্জ্বল প্রতিভাদের একজন।’ তো এমন বোলারকে কীভাবে ঠেকাবেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা? কোচ-অধিনায়কের কথায় আভাস, আমিরকে যতটা সম্ভব সামলে খেলারই পরিকল্পনা এঁটেছেন তাঁরা। কোচ তো বলেই দিলেন, ‘ম্যাচে তার প্রভাব কমানোর পরিকল্পনা করেছি আমরা।’
সেটা দুভাবেই হতে পারে। আমিরের ওপর চড়াও হয়ে, অথবা আমিরকে ঠেকিয়ে। বোলিং প্রান্ত থেকে যখন নতুন বল হাতে দৌড়ে আসবেন আমির, এর কোনটা করার জন্য ব্যাট তুলবেন তামিম? বিপিএলে একই দলে খেলার সুবাদে দুজনের সম্পর্কে বন্ধুত্বের বাতাবরণ আছে। তবে মাঠে সেই বন্ধুত্ব বরং জিঘাংসাটাকেই বড় করে তুলবে দুজনের মনে। বন্ধুর বিপক্ষে জয়ের যে আলাদা মহিমা!
অলিখিত সেমিফাইনালের বাইরেও এই ম্যাচের বিজ্ঞাপনী স্লোগান তাই ‘তামিম বনাম আমির!’

সূত্র: প্রথম আলো

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply