নবজাতকের সুরক্ষায়

হেলথ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

নবজাতকের যত্ন কীভাবে নেওয়া দরকার তা আমরা অনেকেই ঠিকমতো জানি না। ফলে সদ্যোজাত শিশুর সুরক্ষা অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। কয়েকটি পরামর্শ:

* সুস্থ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ শিশুকে মায়ের পেটের সঙ্গে রেখে উষ্ণতা দিতে হবে।

* নরম ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শিশুর মুখ, নাক ও মুখের ভেতরটা পরিষ্কার করে দিতে পারেন।

* খানিকটা দেরি করে অর্থাৎ ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নাড়ি বাঁধা হলে নবজাতকের রক্তাল্পতার মাত্রা কম থাকে।

* শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে তাকে ওয়ার্মারের নিচে রেখে তত্ত্বাবধান করতে হবে। নবজাতক দ্রুততার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা হারায়। স্বল্প ওজন নিয়ে অকালজাত শিশুর ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি ঘটে। সে কারণে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপর শিশুকে পরিষ্কার তোয়ালে বা কম্বলে জড়িয়ে মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে রাখলে তার সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

* শিশুর ত্বক থেকে রক্ত ও অন্যান্য জলীয় পদার্থ হালকা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

* শিশুর নাড়িতে প্রতিদিন ক্লোরহেক্সেডিন বা ট্রিপল ডাই লাগানো উচিত, এতে করে নাভির সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

* শিশুর বিছানা হবে মোটামুটি আরামদায়ক, তবে বেশি নরম নয়। চিত করে শোয়াতে হবে, যাতে নাক-মুখ বিছানায় গুঁজে শ্বাস বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি না থাকে।

* যেসব শিশুর জন্মকালীন ওজন ২ কেজির কম, মায়ের ‘হেপাটাইটিস বি’ থাকুক বা না-ই থাকুক, হাসপাতাল ছাড়ার আগেই তাকে ‘হেপাটাইটিস বি’-এর টিকা দেওয়া শুরু করতে হবে।

* নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আগেভাগে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতে কঠিন কিছু অসুখের ঝুঁকি এড়ানো যায়। এ রকম কিছু অসুখ হলো: জন্মগত থাইরয়েড হরমোনের অভাবজনিত অসুখ, সিসটিক ফ্লাইব্রোসিস, হিমোগ্লোবিন-সংক্রান্ত রোগ, ফিনাইলকিটোরিয়া, গ্যালাকটোসেমিয়া ইত্যাদি। কার্টিসি: প্রথম আলো।

লেখক: ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী; বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

Share.

Leave A Reply