৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, রাত ১২:৪৯

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি সবজি ও ফলের বাজার হারানোর শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বাংলাদেশি পণ্যবাহী কার্গো বিমান সরাসরি যুক্তরাজ্যে অবতরণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে বার্ষিক প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্ক্যানিং দুর্বলতা ও নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ বিমান ও দুবাই এয়ারের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে তৈরি পোশাকসহ অপচনশীল পণ্য বিকল্প পথে সরবরাহের সুযোগ থাকলেও সবজি ও ফল রপ্তানিতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে। সবজি ও ফল রপ্তানির বড় বাজার যুক্তরাজ্য। এ বাজার হারালে রপ্তানির জাতীয় আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত অর্থবছরে ফল ও সবজি রপ্তানি থেকে আয় হয় ১৪ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যের বাজার থেকেই আয় হয় ৪০ শতাংশ বা ৪০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশের প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান ৭০ থেকে ৮০ ধরণের সবজি ও ফল যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করছে। বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টন এ পণ্য যুক্তরাজ্যে যায়। আকাশপথে পণ্য পাঠানোর সুযোগ না থাকলে রপ্তানিতে ধস নামবে। কারণ অন্য পণ্যের মতো পচনশীল পণ্য নৌপথে পাঠানোর সুযোগ নেই। গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাজ্যে সবজি ও ফল রপ্তানি বন্ধ আছে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের আগে অর্ডার করা পণ্যের ডেলিভারি দিতে যেসব বিমানের ট্রানজিট পয়েন্টে স্ক্যান বাধামুক্ত তাদের সাথে আলোচনা চলছে। এতে আমাদের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।

কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পণ্য পাঠানো না গেলে ক্রেতারা অন্যদেশ থেকে পণ্য আমদানি করবে। আর আমদানিকারকরা একবার অন্যদেশে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতেও আমাদের বাজার কমে আসবে। রপ্তানির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। এর আগে গত ১৫ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়া আকাশপথে কার্গো পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তিনটি বাজারে পণ্য রপ্তানিতে ধস নেমেছে।’

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘শুধু বিমানবন্দরের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফলতির কারণেই আজকের এ বিপর্যয়। কারণ গত কয়েক মাস আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্ক্যানিং মেশিনের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের বাধা ছিল। কিন্তু এখনো এর কোনো উন্নতি না হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের পর সবচেয়ে বেশি পণ্য যেত কাতার এয়ারে। ট্রানজিটে দোহা থেকে স্ক্যান করে পণ্য পাঠালে বেশি সময় ক্ষেপণ হতো। ফলে শুক্রবার থেকে এ এয়ারলাইনস পণ্য নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ইতিহাদ, এমিরেটস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি এয়ারে মাল পাঠালেও সময় বেশি লাগছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ করতে হলে স্ক্যানিং পদ্ধতি উন্নয়ন যত দ্রুত করা যাবে রপ্তানির জন্য ততটাই মঙ্গলজনক হবে। এ লক্ষ্যে আমরা সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সাথেও যোগাযোগ করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন মাস আগে বিমান ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা পরিদর্শক দল। দুই দফা নোটিশের পর স্ক্যানিং পদ্ধতির কোনো অগ্রগতি দেখতে পায়নি যুক্তরাজ্যের পরিদর্শক দল। ফলে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেদাজ্ঞা দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কাঁকরোল, কাঁচামরিচ, বরবটি, শিম, লাউ, পটল, কচু, লতি, করলা, পান, বিভিন্ন ধরনের শতাধিক শাক-সবজি এবং লেবু, আমড়া, চালতা, আম, কাঁঠালসহ নানা জাতের ৭০ থেকে ৮০টি মৌসুমি ফল যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়। কার্টিসি: এনটিভি।

Share.

Leave A Reply