হৃদরোগ শুধু পুরুষের সমস্যা?

ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা:

অনেকেই হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাককে পুরুষদের সমস্যা বলে মনে করেন। কিন্তু নারীদের হৃদরোগ কম হয় বলে যে ধারণার প্রচলন রয়েছে, তা ভুল। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের এই রোগ শনাক্ত হয় কম। ফলে তাঁরা হৃদরোগের চিকিৎসাও নেন কম।

নারীদের হৃদরোগের লক্ষণ পুরুষদের চেয়ে একটু ভিন্ন। এ বিষয়ে কিছু তথ্য:

* মাসিক বন্ধ হওয়ার (মেনোপজ) সময় হঠাৎ করেই নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মেনোপজে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে নারীর রক্তে চর্বির পরিমাণ ও রক্তচাপের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজানাই থেকে যায়। মেনোপজের পর একজন নারীর জীবনাচরণ যতটা পালটে ফেলা উচিত, তা সাধারণত করা হয় না। বরং বয়স হতে থাকলে নারীরা আরও ঘরকুনো ও কর্মহীন হয়ে পড়েন।

* গবেষকেরা বলছেন, ৪০ শতাংশ নারীরই হৃদরোগে সাধারণ বুকে ব্যথার পরিবর্তে লক্ষণগুলো ভিন্ন রকম, যেমন: ফিটনেস কমে যাওয়া, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, চোয়াল বা হাতে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

* বিশ্বজুড়ে নারীরা ছোটখাটো সমস্যায় চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন কম—এটাও গবেষণালব্ধ তথ্য। তাই অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের জটিল রোগ অজানা রয়ে যায়। যা পরে জটিল আকার ধারণ করে।

* ধূমপান হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায় আর নারীরা এটা করেন না—এমনই ধারণা অনেকেরই। তবে গবেষণা বলছে, নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা কম নয়। তা ছাড়া অনেক নারী পান-জর্দা-তামাক-গুল সেবন করেন, যা ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর।

পুরুষদের মতো মধ্যবয়সের পর নারীদেরও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো ও চিকিৎসা জরুরি। ওজনাধিক্য, রক্তে শর্করা ও চর্বির আধিক্য, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান ও তামাক, মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রমের অভাব—এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ঝুঁকি কমাতে নারীদেরও সমানভাবে সচেতন হতে হবে। কার্টিসি: প্রথম আলো।

লেখক: মেডিসিন ও কিডনি বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল

Share.

Leave A Reply