আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ৫ মার্চ মঙ্গলবার রাতে তিনি পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টি থেকে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কৃষিমন্ত্রী সিগুরদুর ইনগি জোহানসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন।

পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার একদিন পরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সিগমুন্ডুর। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে আগাম নির্বাচনের আবেদন করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র‍্যাগনার গ্রিমসন তা নাকচ করে দেন।

প্রগ্রেসিভ পার্টির উপনেতা ও কৃষিমন্ত্রী সিগুরদুর ইনগি জোহানসন বলেন, ‘পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। এখন থেকে এই পদের দায়িত্ব আমি নেব।’

পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী কোটি কোটি ডলার ফাঁকি দিতে দেশের বাইরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যেখানে অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ওই নথি ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের আহ্বান জানায় বিরোধী দল।

এর আগে সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন-এর পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী রিকইয়াভিকে পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ১০ হাজার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেন ২৮ হাজার মানুষ। আইসল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখ ৩০ হাজার।

বিক্ষোভকারীরা গগনবিদারী স্লোগান দেন, ড্রাম বাজান, ব্যারিকেড দেন এবং বাঁশি বাজাতে থাকেন। কিছু মানুষের হাতে ছিল কলা। এর মাধ্যমে তারা কলা গণতন্ত্রের মধ্যে বাস করছেন বোঝাতে চাইছিলেন। এমন প্রবল বিক্ষোভে ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন।

আইসল্যান্ডের আর্থিক সেবাবিষয়ক পরামর্শক আর্নথো হ্যালডারসন বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) পুরোপুরি মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। আমাদের সম্পদ বিদেশের অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে রাখেন… এভাবে চলছে দেশটা, আর্থিক সংকট থেকে পুনরুদ্ধারে তিনি কীভাবে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভান করবেন?’

পদত্যাগের আগে অবশ্য আইসল্যান্ডের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাকে কেউ পদত্যাগ করতে বলেনি। আর আমি এ বিষয়ে ভাবছি না। সরকারের ভালো ফলাফল আছে। উন্নতি বেশ জোরালো এবং সরকারের কাজ শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ পরে বিক্ষোভের মুখে আজকের অধিবেশন বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিয়ারনি বেনেডিকসন বলেন, ‘আইসল্যান্ডের মুদ্রা ও অর্থনীতিতে তিনি আস্থা হারিয়েছেন।’

পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায় ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী বিদেশে একটি কোম্পানি ক্রয় করেছেন। যে কোম্পানিটি আইসল্যান্ডের তিনটি ব্যাংকের বন্ডের মালিক ছিল। ওই বছর আর্থিক মন্দার সময় লোকসানের মুখে পড়ে ব্যাংক তিনটি বন্ধ হয়ে যায়। শুধু প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী নন, তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যেরও বিদেশে অবৈধ ও গোপন সম্পত্তি রয়েছে।

পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার আগে থেকেই দুর্নীতি ইস্যুতে আইসল্যান্ডের রাজনীতি উত্তপ্ত ছিল। চলতি বছরের শুরুতে এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৭০ শতাংশ আইসল্যান্ডার সিগমুন্ডুরকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। সূত্র: আল জাজিরা, হাফিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান।

Share.

Leave A Reply