রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিবাদে মৌলিক বাঙলা’র পদযাত্রা

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন মৌলিক বাঙলা। তবে একাধিক স্থানে সংগঠনটির পদযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের কর্মসূচিতে এমন পুলিশি বাধার অভিযোগ করে সংগঠনটি।

১৭ এপ্রিল ২০১৬ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মৌলিক বাঙলা’র নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নির্ধারিত পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ নানা অজুহাতে সেখানেই পদযাত্রা অাটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশি বাধায় নির্ধারিত রুট প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, কাওরান বাজার-এর রাস্তা ছেড়ে পদযাত্রা দোয়েল চত্বরের দিকে এগিয়ে যায় এবং জাতীয় শহীদ মিনারের দিকে যাওয়ার পথে দোয়েল চত্বরে অারেক দফা বাধার মুখে পড়ে পদযাত্রা।

এরপর সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে একটি পথসভা করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এসে পদযাত্রা শেষ করার কথা ছিল। তবে টিএসসি চত্বরেই পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। হামলার শুরুতে তাদের ওপর পুলিশ অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে পুলিশ। তারপর পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মাইক ভাঙচুর, মৌলিক বাঙলা’র বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পোস্টার পায়ের তলায় ফেলে পিষ্ঠ করা হয়। এ সময় পুলিশের হামলার শিকার হন দলের আহবায়ক কবি ও লেখক শ্মশান ঠাকুর, কেন্দ্রীয় সংঘটক চলচ্চিত্রকার অশোক বসাক, সভাপতি কবি জাহিদ জগৎ সহ অারও অনেকে।

দলীয় কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন মৌলিক বাঙলা'র নেতাকর্মীরা।

দলীয় কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন মৌলিক বাঙলা’র নেতাকর্মীরা।

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদী মিছিল ও অপরাজেয় বাংলার সামনে সমাবেশ করা হয়। মৌলিক বাঙলা’র পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠক জাকারিয়া বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অান্দোলনে হামলা করে রাষ্ট্র তার ব্যার্থতাই প্রমাণ করলো।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি জাহিদ জগৎ বলেন, সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সুন্দরবনের ক্ষতি হলেও নাকি সরকারের কিছু করার নেই। সরকারের কিছু করার না থাকলেও জনগণের অনেক কিছু করবার অাছে। জনগণ চাইলে মুহুর্তেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎখাত করে দিতে পারে। সুতরাং হামলা, মামলা দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

সুন্দরবন তথা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার অাহবান জানানোর মধ্য দিয়ে অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত এ সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Share.

Leave A Reply