মায়ের জন্য ভালোবাসা

মুহম্মদ পাঠান সোহাগ, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

‘মা’ মানে হচ্ছে আলো; যে আলোতে যায় পালিয়ে অন্ধকারের কালো। মা শব্দটি মূলত একটি আশ্রয়ের নাম। এই একটি শব্দই মনে করিয়ে দেয় অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার কথা। দুনিয়ার প্রায় ৬০টি দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। অর্থাৎ এ বছর ৮ মে মা দিবস।

শুধু বিশেষ দিন নয়; মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিটি দিনের। প্রতিটি ক্ষণের। মায়ের জন্য বিশেষ দিন থাকার দরকার আছে কি-না তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে, একটি বিশেষ দিনে না হয়, মাকে একটু বেশিই ভালোবাসি। যারা আজও বলেননি, মা তোমাকে ভালোবাসি, তারা না হয় আজ মাকে ভালোবাসার কথাটি মুখ ফুটে বলুন।

ভাবছেন মা দিবসে কি দেওয়া যায় মাকে? এদিন মায়ের হাতে তুলে দিতে পারেন তার প্রিয় রঙের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ। উপহারের তালিকায় থাকতে পারে অর্নামেন্টস, ওয়ালেট, কফি মগ, জুতো কিংবা স্ন্যাকস ট্রে’র মতো সামগ্রী। এছাড়া মাকে চমকে দিয়ে তার প্রিয় খাবারটি নিজের হাতে রান্না করে পরিবেশন করতে পারেন।

আদতে অপরিশোধ্য মাতৃঋণের বদলে মাকে ক্ষণিকের আনন্দ দিয়ে খুশি হয় সন্তানরা। দূরে থাকায় মায়ের স্পর্শ যারা সব সময় পান না, তারা দ্বারস্থ হন সেলফোনের।

বর্তমানে প্রচলিত মা দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে। শতাব্দীর শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। তার সে ভাবনা বাস্তবায়নের আগে ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন। বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মায়েদের জন্য উৎসর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।

Share.

Leave A Reply