রায় পড়ে শোনানো হয়েছে নিজামীকে

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে তাঁর করা রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। ৯ মে ২০১৬ সোমবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে রায় পড়ে শোনানো হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলম রাতে সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে রায়ের এই পূর্ণাঙ্গ কপিতে সই করেন বিচারপতিরা। এরপর রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায় প্রকাশের পর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের কপি সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরই মতিউর রহমান নিজামীকে রায় পড়ে শোনানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া মতিউর রহমান নিজামীর করা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই রায়ের মধ্য দিয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।

কাশিমপুর কারাগারে থাকা নিজামী ওই দিন দুপুরে তাঁর কাছে থাকা একটি এক ব্যান্ডের রেডিওর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার খবর শুনেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।

পরে গতকাল রোববার রাতে মতিউর রহমান নিজামীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় মতিউর রহমান নিজামীকে। ছবি: জিয়া ইসলাম

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ২৯ মার্চ নিজামীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজামীর বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে পাবনার বাউসগাড়ি ও ডেমরা গ্রামে ৪৫০ জনকে নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ, করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনার দায়ে (২,৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ) নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আপিল বিভাগের রায়ে করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণের দায় (৪ নম্বর অভিযোগ) থেকে নিজামীকে খালাস দেওয়া হয়। বাকি তিন অভিযোগে তাঁর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু করেন। কার্টিসি: প্রথম আলো।

Share.

Leave A Reply