৩ পৌষ, ১৪২৪|২৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭|রবিবার, সন্ধ্যা ৬:০২

রাজধানীতে মুদ্রা প্রদর্শনী!

সাদিয়া শারমিন, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

প্রদর্শনী বিষয়টা সংস্কৃতিমনা মানুষদের কাছে বরাবরই ব্যতিক্রম। আর কাঙ্ক্ষিত সেই প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু যদি হয় একটু ভিন্ন তখন আকর্ষণের মাত্রাটাও হয় ব্যাপক। বুধবার দর্শকদের সেই আকর্ষণেরই প্রতিফলন দেখা গেছে রাজধানীর টাকা জাদুঘরে।

১৮ মে ছিল আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস। পৃথিবীর মোট ১৯৬টি দেশের প্রায় প্রতিটি দেশই এই দিবসটি পালন করেছে। নানা কৃষ্টি–সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাকে একত্রে আবদ্ধ করে ঘিরে উঠার নামই জাদুঘর। তাই যে কোনো দেশকে জানার ক্ষুদ্র পরিচয়স্থল হল সেই দেশের জাদুঘর।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সুপ্রাচীন দুইটি জাদুঘরও এ দিবসটি পালন করেছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য সব জাদুঘরও দিবসটি পালন করেছে। তবে এ ব্যাপারে একটু ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিলেন টাকা জাদুঘর। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে কিছুটা ভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে এই প্রথমবারের মতন টাকা জাদুঘর তাদের কয়েকজন মুদ্রা উপহারদাতার সংগ্রহকৃত মুদ্রা নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সাতদিনের এই যৌথ মুদ্রা প্রদর্শনীর আয়োজক হিসেবে আছেন টাকা জাদুঘর ও টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাবের সদস্যরা। যেসব মুদ্রা সংগ্রাহক এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে দুই একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো তাদের দুর্লভ সংগ্রহের কিছু সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

প্রদর্শনীতে লেখিকাসহ কয়েকজন দর্শনার্থী।

প্রদর্শনীতে লেখিকাসহ কয়েকজন দর্শনার্থী।

সংগৃহীত কিছু বিরল মুদ্রা ও মুদ্রা সংগ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের সংগৃহীত তৈমুর লং এর একটি দুর্লভ ধাতব মুদ্রা, ইলতুতমিশের একটি ধাতব মুদ্রা, নাদির শাহের একটি ধাতব মুদ্রাসহ ৪ টি ধাতব মুদ্রা। রয়েছে সৈয়দ রশিদ আলমের কুক আইল্যান্ডের এক সেট প্রুফ কয়েন, ১৮৬৮ সালে মুদ্রিত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সেন্ট এর পয়সার নোট। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফারহানা কবির ইমা, জহিরুল ইসলাম শিকদার, সাইদ বিন সালাম তুহিন, মাহাবুব হাসান, এস এম রফিকুল ইসলাম, এডওয়ার্ড তরুন রায়, জুয়েল আহসান ও শাহাদাত হোসেন।

এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য, নতুন সংগ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানো। টাকা জাদুঘরের সমৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন। তাই তারা শিক্ষার্থী, দর্শনার্থীদের এই মুদ্রা প্রদর্শনীতে আসার জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রন জানিয়েছেন। নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের টাকা জাদুঘরে অবদান রাখার মধ্য দিয়ে আপনিও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠতে পারেন। কেননা জাদুঘর হচ্ছে একটি দেশের চলমান ইতিহাস। প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ইতিহাস জানার পাশাপাশি আছে স্যুভেনির নোটে নিজের ছবি সম্বলিত টাকা প্রিন্ট করার সুবর্ণ সুযোগ। এছাড়াও টাকা জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্যান্য মুদ্রাও দেখার সুযোগ রয়েছে।

টাকা জাদুঘরে সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার। এছাড়া অন্য যেকোনো দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন মিরপুর ২-এ অবস্থিত টাকা জাদুঘর। হয়তো এই দেখার মধ্য দিয়ে আপনার মনেও মুদ্রা সংগ্রহ শখের একটি জায়গা করে নেবে। হয়তো আপনিও হয়ে উঠতে পারেন ভবিষ্যৎ মুদ্রা সংগ্রাহকদের একজন।

Share.