৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, দুপুর ২:০২

হিরোশিমায় বেঁচে যাওয়া বৃদ্ধকে জড়িয়ে ধরলেন ওবামা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে এই মুহূর্তে জাপানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম জাপান সফর। শুক্রবার বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি পারমাণবিক বোমার নিষ্ঠুরতার স্বাক্ষরবাহী শিরোশিমা শহর পরিদর্শনে যান ওবামা। এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আলিঙ্গন করেন শিগিয়াকি মরি নামে হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার নিষ্ঠুরতা থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে’কে সঙ্গে নিয়ে হিরোশিমার ‘পিস মেমোরিয়াল পার্ক’ পরিদর্শন করেন ওবামা। এরপর তারা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে যান। এ সময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের কথা স্মরণ করেন ওবামা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতি ম্লান হওয়ার নয়। হিরোশিমার নীরব কান্না আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমার কোনও বাক্যই হিরোশিমায় আক্রান্তদের কষ্ট কমাবে না। আমি এখানে কেন এসেছি? এমন প্রশ্ন অনেকেই করতে পারেন, কিন্তু আমি এসেছি আমার মানবিক বোধ থেকে।

ওবামা বলেন, বিশ্বের প্রথম এই পারমাণবিক বোমা হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা চাইবে না। তবে আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার করছি।

বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা বিস্ফোরণস্থলে গিয়ে ইতিহাসের সেই মুহূর্তটার মুখোমুখি হওয়াটা ওবামার জন্য অনেকটাই ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ ছিল। ওবামার ভাষায়, কোল্ড ওয়ারের সময় পরমাণু বিস্ফোরণের বিষয়টি মানুষের মনে যতটা সজীব ছিল, এখন আর তা নেই। তবে পরমাণু যুদ্ধের বিপদ এখনও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি।

ওবামা বলেন, ‘পরমাণু হামলার প্রেক্ষাপটটা আমাদের মনের পিছন দিকে হলেও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে বাস্তব বিপদ এবং সেটা এড়ানোর জন্য আমাদের যে মরিয়া চেষ্টা করা উচিত, সেটাই আমি আরও এক বার তুলে ধরতে চাই।’

২৫ মে ভিয়েতনাম থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ প্লেনটি জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে এর আগে ওবামা নিজে এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হিরোশিমা সফরকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দুঃখপ্রকাশ বলে যেন ব্যাখ্যা করা না হয়। জাপানের মানুষের একটা অংশের দাবি সত্ত্বেও ওবামা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘ক্ষমা চাওয়া’র প্রশ্ন নেই। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান ‘অসাধারণ মিত্রতা’কে তুলে ধরাই এই সফরের উদ্দেশ্য।

হিরোশিমা হচ্ছে সেই শহর যেখানে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ‘লিটল বয়’ নামক পারমাণবিক বোমার বিস্টেম্ফারণ ঘটানো হয়েছিল। তাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ। সেদিন যারা কোনওভাবে বেঁচে যান, তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় মৃত্যু যন্ত্রণা। হিরোশিমায় স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা সেই যন্ত্রণা ও ক্ষতের সাক্ষী হয়ে আছে এখনও। বস্তুত প্রাণঘাতী ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক এই কর্মকাণ্ডের একক দায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। শুক্রবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এই শহরটি পরিদর্শনে যান ওবামা। সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইয়াহু, সিবিএস নিউজ, শিকাগো ট্রিবিউন।

Share.

Leave A Reply