৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৭:১০

যে কারণে ইসলাম গ্রহণ করেন মোহাম্মদ আলী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিল কেন্টাকিতে আফ্রো-আমেরিকান এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসিয়ার মার্কাস ক্লে। তার বাবা ক্যাসিয়াস মার্কাস সিনিয়র পেশায় একজন সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড পেইন্টার এবং তার মা ছিলেন একজন গৃহিণী। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গদের অবজ্ঞার শিকার হন ক্লে। শ্বেতাঙ্গ মানুষের চেয়ারে তাদের বসতে দেয়া হতো না। এমনকি একজন বিশ্বসেরা বক্সার হওয়ার পরও তাকে শ্বেতাঙ্গদের হোটেলে খাবার দেওয়া হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা ও শ্বেতাঙ্গদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। ফলে এ থেকে মুক্তির একটা পথ খুঁজছিলেন তিনি।

১৯৬৪ সালে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা আফ্রিকা ও আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতো। তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলামকে বুঝতে শেখেন তিনি। ইসলাম শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ও ব্যবধান রাখে না বলে জানতে পারেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করে তিনি নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন মোহাম্মদ আলী।

‘নেশন অব ইসলাম’ সংগঠনটির সঙ্গে ‘ইসলাম’ শব্দ থাকলেও তারা শুধু ইসলাম নিয়ে কাজ করতো না। তারা ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে সমন্বয় করে একটি নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল। বিষয়টি পরে বুঝতে পারেন মোহাম্মদ আলী। এতে ১৯৭৫ সালে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুন্নী মুসলিম হন। এরপরই তিনি নিজেকে প্রকৃত মুসলিম বলে পরিচিত করতে থাকেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি বক্সিং ও ইসলাম- এই দু’টোর মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই আমি ইসলামকে বেছে নিবো’।

ইসলাম গ্রহণের পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভেদাভেদ দূর করতে কাজ করে গেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৫ সাল থেকে ইসলামের সুফিবাদের সংস্পর্শে আসেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুফিবাদ চর্চা করেন ‘দ্য গ্রেট’ মোহাম্মদ আলী।

Share.

Leave A Reply