সব জানলে তাদের ধরছেন না কেন: প্রশ্ন খালেদার

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

সম্প্রতি একের পর এক খুনের ঘটনা সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রতিনিয়ত পত্রিকা খুললে মৃত্যু আর মৃত্যু। এই মৃত্যু সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি জানেন। তাহলে কেন তাদের (খুনি) ধরছেন না?

১৪ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-অ্যাব’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) বিদেশিদের আশ্বস্ত করতে চান, তিনি নাকি এ দেশে সন্ত্রাস দমন করবেন। তিনি সন্ত্রাস দমন করবেন না।’

সাম্প্রতিক সময়ের গুপ্তহত্যার ঘটনায় দুটি দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না। আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট (সরকারপ্রধান)। আমার কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে। তদন্তের স্বার্থে হয়তো সব কথা, সব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু সূত্রটা জানা যায়। আর সেই সূত্র ধরেই আমরা কথা বলি।’ তিনটি দেশ সফর শেষে গত ৮ জুন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গির উত্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সারা দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে এখানে জঙ্গিদের উত্থান ঘটিয়ে দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে দিতে চান। শেখ হাসিনা আজকে জেনে-বুঝে এ কাজগুলো করছেন।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাসদের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) দলের মধ্যে আসল সব খুনিরা রয়েছে। এমন সব লোক রয়েছে, তারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক আগে থেকেই তারা গুম-খুন করে এসেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ যখন একসঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে ছিল, এরাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুন করত, গুম করত। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ, অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য দিত, সেগুলোকে এখন হাসিনা ভুলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মূল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মূল্যায়ন করছেন। এর ফলেই দেশের এ অবস্থা হচ্ছে।

জঙ্গি দমনের নামে পুলিশের ‘সাঁড়াশি অভিযান’ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনা নিজেই বলেছেন, একটার পর একটা টার্গেট কিলিং হচ্ছে, মানুষ নিহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পত্রিকা খুললে মৃত্যু আর মৃত্যু। এই মৃত্যু সম্পর্কে তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, তিনি জানেন। তাহলে কেন তাদের ধরছেন না?’ সাঁড়াশি অভিযানের নামে একদিকে ‘চাঁদাবাজি’, অন্যদিকে ‘গ্রেপ্তার-বাণিজ্য’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

অ্যাবের সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান কারাবন্দী। তাঁকে তিন বছর ধরে বিনা বিচারের আটক করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানান খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া ইফতারে অংশ নেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাছিন আহমেদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের (একাংশ) মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

Share.

Leave A Reply