ফেসবুক বিড়ম্বনায় শিল্পী অনিন্দিতা শাহনাজ

মুহম্মদ পাঠান সোহাগ, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: সময়টা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার। কর্মব্যস্ত মানুষ কাজের ফাঁকেই বন্ধু-স্বজনের প্রোফাইলে একটু চোখ বুলিয়ে নেন। আপডেট থাকেন সহকর্মী ও প্রিয়জনদের সম্পর্কে। তবে মুদ্রার বিপরীত দিকও আছে। ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনার শিকার হন অনেকে। সম্প্রতি দফায় দফায় এমন বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিল্পী অনিন্দিতা শাহনাজ।

সম্প্রতি দ্য ঢাকা রিপোর্টের কাছে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রশংসা কুড়ানো এ বাংলাদেশি শিল্পী। জানালেন, ‘আমার নামে অন্তত ৮ থেকে ১০টি ফেক ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে ফেক আইডির প্রকোপে আমার দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত মূল আইডিটিও ডিজঅ্যাবল হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন আমি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এদিকে ফেক আইডিগুলোও চলছে সমান্তরালে। এতে ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। সংগত কারণেই কেউ কেউ হয়তো ভেবেছেন, মূল আইডি থেকে তাকে ব্লক করে নতুন আরেকটি আইডি চালাচ্ছি। অফিস এবং নিজের শখের জায়গা ছবি আঁকার বাইরে পুরনো আইডি উদ্ধারে সময় দেওয়াও ছিল বেশ কঠিন। সব মিলিয়ে এটা ছিল আমার জন্য একটা উটকো বিড়ম্বনা।’

অনিন্দিতা শাহনাজ বলেন, ফেক আইডির প্রকোপে তার কয়েক বছরের পুরনো আইডিকেই ফেক বলে সন্দেহ করে ফেসবুক। আইডিতে লগ ইন করতে গেলে ফেসবুক থেকে বার্তা দেখানো হয়, আপনিই এই আইডির প্রকৃত মালিক সেটা প্রমাণ করুন। কিন্তু সেটাও খুব সহজ ছিল না। দীর্ঘ চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত শিল্পী অনিন্দিতা শাহনাজের পুরনো আইডি ফের চালু করে দেয় ফেসবুক। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তার ছবি দিয়ে খোলা একই নামের সবকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। আপাত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন অনিন্দিতা শাহনাজ।

শিল্পী অনিন্দিতা শাহনাজ

শিল্পী অনিন্দিতা শাহনাজ

এদিকে ফেসবুক থেকে সব ফেক আইডি ব্লক করতে না করতেই নতুন করে আবারও শুরু হয়েছে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেক আইডি খোলার উপদ্রব।

গত ১৬ জুন এক ফেসবুক পোস্টে অনিন্দিতা শাহনাজ বলেন, মেহনাজ নওশিন নামে একটি ফেসবুক আইডির নাম পাল্টে রাখা হয়েছে অনিন্দিতা শাহনাজ। ওই আইডি’র লিংকেও মেহনাজ নওশিন নামই দেখায়। মানুষের এমন অব্যাহত নোংরামিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন এ চিত্রশিল্পী।

তিনি বলেন, হিংসা বা শত্রুতা করার একটা লিমিট আছে। একটা মেয়ের কোনো রকম সাড়া না পেলেই কি এসব করতে হবে নাকি? ভদ্রতা, বিনয় বা সৌজন্যবোধ কি মুছে গেছে?

অনিন্দিতা শাহনাজ দ্য ঢাকা রিপোর্টকে বলেন, আমি কাজের প্রয়োজনে ফেসবুক ব্যবহার করি। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে হয়তো ফেসবুক ব্যবহারই ছেড়ে দিতে হবে।

অনিন্দিতা শাহনাজ বলেন, ফেসবুকে আমার একটাই আইডি। যেটার লিংক https://www.facebook.com/onindita.shahnaz. এছাড়া ফেসবুকে আমার নামে অন্য যত আইডি দেখায়, তার সবই ফেক। সবার কাছে একটাই অনুরোধ, ফেসবুকে আমার অন্য কোনো আইডি আছে মনে করে আমাকে অযথা ভুল বুঝবেন না।

অনিন্দিতা শাহনাজের জন্ম ঢাকায়। বাবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। কূটনীতিক বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলার একটা বড় অংশ কেটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বেশ কয়েক বছর সেখানকার স্কুলে পড়াশুনার পর দেশে এসে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুলে ভর্তি হন। শাহনাজের খালা বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী নারী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার।

অনিন্দিতা শাহনাজ কাজ করছেন বিশ্বব্যাংকের কমিউনিটি অর্গানাইজেশন ফ্যামিলি মেম্বার নেটওয়ার্কে (ইউবিএফএন)। সংস্থাটির মোজাইক জার্নালের ডেস্কে কাজের পাশাপাশি এ জার্নালের বাংলাদেশ অংশ দেখেন তিনি। অবসরে ছবি আঁকেন নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে। এরইমধ্যে মার্কিন মুলুকে তাঁর আঁকা ছবি বেশ সমাদৃত হয়েছে। তাঁর ছবির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টিমোথি ইভান্সসহ আরও অনেকে।

Share.

Leave A Reply