৯ চৈত্র, ১৪২৩|২৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৮|২৩ মার্চ, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, রাত ১০:২৩

‘পুলিশের উপস্থিতিতে’ আ. লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর গ্রামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এ সময় আরেকজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা ২২ জুন ২০১৬ বুধবার সকালে পুলিশ ডেকে এনে এই ঘটনা ঘটান বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগের ওই নেতাসহ সাতজনকে আটক করেছে।

নিহত মাহতাব উদ্দিন (৪৫) আলীনগর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আলীনগর গ্রামের মৃত মখন আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে গরুর ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে আলীনগর গ্রামের বাড়ির পাশের জমিতে গরু বেঁধে বাড়ি ফিরছিলেন মাহতাব উদ্দিন। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর বুক ও পেটে ধারালো দা দিয়ে একাধিক কোপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

প্রতক্ষ্যদর্শীর বরাতে জানা যায়, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আজ জমির দখল নিতে সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন তালুকদার (৩৪), ও তাঁর সহযোগী রুবেল তালুকদার (২২), লিমন তালুকদার (৩৬), রাজন তালুকদার (৩০), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবদুল ফাত্তাহ (৫৫), মঞ্জুর আহমদ (৩০),  রুবেলসহ অন্যরা। মাহতাব পাশের জমিতে গরু বেঁধে যাওয়ার পথে তাঁদের হামলার শিকার হন।

ঘটনার পর উত্তেজিত আসাদ (৪৫) রুবেলদের বাড়িতে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এলাকার অনেকেই অভিযোগ করে, জমির দখল ও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাতে সুমন তালুকদাররা বাড়িতে পুলিশ নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এ খুনের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ইসদাত চৌধুরী ও রুমান আহমদ বলেন, মাহতাব উদ্দিনকে কোপানোর সময় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন।

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। লোকজন হত্যাকারীদের বাড়ি ও পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে কয়েক দফায় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে পুলিশ মূল অভিযুক্ত রুবেল তালুকদার, লিমন তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা সুমন তালুকদার, রাজন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আবদুল ফাত্তাহ ও মঞ্জুর আহমদ এবং বাবুলকে আটক করে নিয়ে যায়।

পুলিশের উপস্থিতিতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবের আহমদ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশও পাঠানো হয়েছিল।

ওসি বলেন, মোট নয়জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে দুই নারীকে নিরাপত্তার কারণে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জুবের আহমদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যেও দুই তিনজন আহত রয়েছেন। তাঁদের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মাহতাব উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বিকেলে বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধী প্রভাবশালীরা গরিব লোকটিকে মেরে ফেলেছে। লোকজন খুনিদের তাদের বাড়িতে ঘিরে রেখেছে। পুলিশ আছে, ওসিও এসেছেন।’

এদিকে আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জায়গীরদার জানান, নিহত মাহতাব উদ্দিন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আর আটক সুমন তালুকদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কার্টিসি: এনটিভি।

Share.

Leave A Reply