জয়েরও বিচার হওয়া উচিত: খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

অর্থ লোপাটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত। আর এ কারণেই প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ছে না।

২৮ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া।

প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার ছেলে জয় তিনশ মিলিয়ন ডলার, প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে আমেরিকায়। এই কাগজগুলো শফিক রেহমানের কাছে ছিল। এই কাগজগুলো কেন তিনি রেখেছিলেন এই অপরাধে আজকে তিনি জেলখানায়। এই হলো বিচার। আমরা মনে করি, জয়কেও এখানে আনা উচিত এবং জয়েরও বিচার করা উচিত। না হলে ন্যায়বিচার হয় না।’

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকারের টার্গেট বিএনপিকে ধ্বংস করা। তিনি বলেন, ‘এই যে কতগুলা ঘটনা ঘটল, বিদেশিরা মরল। এগুলোর একটার কাউকে ধরতে পারে নাই। যারা এই ঘটনাগুলা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ধরতে পারে নাই। কেন ধরতে পারে নাই? কারণ এই লোকগুলা ছিল তাদের। এই লোকগুলা তাদের ছিল। এবং কিংবা তাদের সমর্থক কেউ ছিল। যার জন্য তাদের হয়ে কাজ করে, যার জন্য এদেরকে ধরা হয় নাই। দেশি এবং বিদেশি মানুষকে দেখানোর জন্য, সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কী হলো, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের ধরা হলো। সত্যিকারের অপরাধী যারা তাদের ধরুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আপনারা অন্যায়ভাবে নিরীহ লোককে ধরে জুলুম-নির্যাতন চালাবেন এটা নয়।’

ইফতারের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন না থাকায় সারা দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা একদিকে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছে। অন্যদিকে হাজার হাজার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। জঙ্গি দমনের নামে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

সরকার বিএনপি দমনের টার্গেট নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ‘হাসিনা সরকারের টার্গেট হলো বিএনপি, এই বিএনপিকে ধ্বংস করা। হাসিনা মনে করছে, বিএনপি ধ্বংস হলেই হাসিনার ক্ষমতা একদম পাকাপোক্ত। হাসিনা চিরস্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত পেয়ে যাবে। কিন্তু এই দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে সব সময় তারা ছিল।’

বর্তমান সরকার লুটপাট করে আর্থিক সব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

জনগণের অধিকার আদায়ে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মো. সাহাবুদ্দিন, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কাজী আবুল বাশার, শামসুল হুদা, নাসিমা আখতার কল্পনা, বজলুল বাসিত আনজু, ইউনুস মৃধাকে নিয়ে এক টেবিলে বসে ইফতার করেন।

অনুষ্ঠানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবীর খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মাহবুবুল হক নান্নু, শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা।

Share.

Leave A Reply