সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ জাকির নায়েকের

নঈম ওসমান, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বিশ্ববরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ এবং তার টেলিভিশন চ্যানেল পিস টিভি বন্ধে সম্প্রতি বেড়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতা। শিবসেনার দাবির পর ভারতে পিস টিভি বন্ধের ঘোষণা দেয় দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও পিস টিভি বন্ধের ঘোষণা আসে। কিন্তু বিশ্বাসী মুসলমানদের কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছেন বরেণ্য এই ইসলাম প্রচারক। এবার তাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ‘বিতর্কিত’ প্রপাগান্ডা নিয়ে মুখ খুলেছেন ড. জাকির নায়েক।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, টেলিভিশন বা দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে তিনি আগ্রহী। তবে গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে বিষয়টি নিয়ে তাঁর মধ্যে শঙ্কাও কাজ করছে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেবেন ভিডিওবার্তায়।

বিবৃতির শুরুতেই জাকির নায়েক লিখেছেন, ‘সংবাদমাধ্যম নায়ককে খলনায়কে, আর খলনায়ককে নায়কে পরিণত করতে পারে।’
বিবৃতিতে জাকির নায়েক বলেন, “১ জুলাই ঢাকায় যে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, তাকে ভিত্তি করে ‘সংবাদমাধ্যম আমার বিচার চালাচ্ছে’, তাতে আমি আহত হয়েছি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে আমার যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে, তা হয় অপ্রাসঙ্গিক অথবা খণ্ডিত বা ভুয়া। দৈনিক পত্রিকায় ছাপা আমার বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।”

তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশন চ্যানেল বা দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী। কিন্তু আমি শঙ্কিত। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে দেওয়া কয়েকটি সাক্ষাৎকারের পর আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলো ওই টেলিভিশন চ্যানেল ও দৈনিক পত্রিকাগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।’

জাকির নায়েক জানান, তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেবেন ভিডিও ফুটেজে। আর তা সংবাদমাধ্যমে পাঠাবেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ করবেন।

তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আমি গোয়েন্দাদের সব রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জাকির নায়েক নিজের অবস্থানও জানিয়েছেন এই বিবৃতিতে। তিনি বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার সমর্থক নই। আমি বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন আলোচনাগুলোতে বহুবার একথা বলেছি যে, আমি কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করি না। কেউ আমার কোনও বক্তব্যকে যে কোনও পর্যায়ের সহিংসতার জন্য ব্যবহার করলে, আমি তীব্রভাবে তার নিন্দা জানাই।’

জাকির নায়েক এর আগে টুইট বার্তায়ও লিখেছেন, ‘সংবাদমাধ্যম আমার বিচার চালাচ্ছে। আমাকে সমর্থন করুন, পাশে থাকুন।’
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভারতে সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে পিস টিভি’র সম্প্রচার। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বন্ধ হয়েছে চ্যানেলটি। ইসলাম প্রচারের এ চ্যানেল বন্ধে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ঢাকার গুলশানে হামলা চালানো দুই জঙ্গি জাকির নায়েককের ফেসবুক ফলোয়ার ছিলেন-এমন অভিযোগ তুলে ফের শুরু হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতা। যার ফলশ্রুতিতে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে প্রথমে ভারতে বন্ধ হয় চ্যানেলটি; এরপর বাংলাদেশে। এমনকি অনলাইনেও পিস টিভির প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রশ্ন উঠেছে গুলশান হামলাকারীরা ফেসবুকে আর কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের পেজে লাইক দিয়েছিলেন? একে একে কি তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হবে? কিংবা বাংলাদেশে এভাবে ভারতের অন্ধ অনুকরণের ধারাবাহিকতায় ভারতের মতো এদেশেও কি গরু জবাই বন্ধ করে দেওয়া হবে?

উল্লেখ্য, গুলশান হামলাকারীদের মধ্যে একজন রোহান ইমতিয়াজ ঢাকার একজন শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র। আরেক জঙ্গি নিবরাস ইসলাম ফেসবুকে ভারতীয় নায়িকা শ্রদ্ধা কাপুরের সঙ্গে ড্যান্স করার ছবি পোস্ট করেছিলেন। ওই পোস্টে শ্রদ্ধা কাপুরকে দুনিয়ার সেরা সুন্দরী নারী হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে আইএস নামে পরিচিত জঙ্গি সংগঠন দায়েশ। ওই হুমকিদাতাদের মধ্যে আলোচিত মডেল নায়লা নাঈমের সাবেক স্বামী আরাফাত ওরফে তুষার রয়েছেন। প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদের ছেলে ডেন্টিস্ট তুষারের সঙ্গে ২০১১ সালে নায়লা নাঈমের বিয়ে হয়। পরে ছাড়াছাড়ি হয় তাদের।

এখন কি তাহলে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, শ্রদ্ধা কাপুরের মতো বলিউড নায়িকা আর মডেল নায়লা নাঈমদেরও নিষিদ্ধ করবে বাংলাদেশ সরকার? নাকি এক্ষেত্রেও ভারতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা?

আরও পড়ুন:

কেন জনপ্রিয় ড. জাকির নায়েক?

হুমকিদাতাদের মধ্যে নায়লা নাঈমের সাবেক স্বামীও!

Share.

Leave A Reply