জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী বক্তব্যের প্রমাণ মেলেনি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বিশ্ববরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে কথিত সন্ত্রাসবাদী বক্তব্য দেওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সংবাদমাধ্যম বেশ সরব। এরইমধ্যে দুই দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার পরিচালিত ইসলামী টিভি চ্যানেল পিস টিভি।

দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্র স্টেট ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট (এসআইডি)- থেকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী বক্তব্যের অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। বরং এ ধরনের অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছে সংস্থাটি।

এসআইডির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে জাকির নায়েকের দেওয়া লেকচারের মধ্যে ইউটিউব থেকে ১০০টিরও বেশি লেকচার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যান্য তথ্যও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। হায়দরাবাদসহ কিছু রাজ্যে আইএসের প্রসারে তার বক্তৃতা প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি উঠেছে। সেই হায়দরাবাদের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তথ্য উপাত্ত নিয়ে সেগুলোও যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর্যবেক্ষণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ইংরেজিভাষী এই ধর্ম প্রচারকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগেরই প্রমাণ মেলেনি। শুধু যে সম্ভাব্য বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যায়, সেটি হলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া। কিন্তু সেটিও তার বক্তব্য থেকে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আমরা তার গতিবিধি নজরে রেখেছি। যদি তিনি তার অবস্থান থেকে কখনও সরে যান, কেবলমাত্র তখনই তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা সম্ভব। আপাতত, আমরা শুধু তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

তিনি বলেন, ঢাকা ও হায়দরাবাদের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে বা কোনও সন্ত্রাসী-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে জাকির নায়েকের সংযোগ আছে এমন কোনও শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তার শক্তিশালী ধর্মীয় তত্ত্ব কাউকে তালেবান, আল-কায়েদা বা আইএসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র তৈরি করাতে পারে; এমন কোনও প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।

সোমবার সৌদি আরব থেকে মুম্বাইয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল জাকির নায়েকের। তবে ভারতে ফেরা বাতিল করে শেষ মুহূর্তে তিনি আফ্রিকার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তবে তার পরিবারের সদস্যরা মক্কা থেকে ভারতে ফিরেছেন। তার সমর্থকরা দাবি করেছেন, জাকির নায়েক কোনও অপরাধ করেননি। জাকির নায়েকের আইনজীবী মুবিন সোলকার বলেছেন, তার বক্তব্যে কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগের সত্যতা নেই।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকির নায়েক লিখেছেন, সংবাদমাধ্যম নায়ককে খলনায়কে, আর খলনায়ককে নায়কে পরিণত করতে পারে। ১ জুলাই ঢাকায় যে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, তাকে ভিত্তি করে ‘সংবাদমাধ্যম আমার বিচার চালাচ্ছে’, এতে আমি আহত হয়েছি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে আমার যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে, তা হয় অপ্রাসঙ্গিক অথবা খণ্ডিত বা ভুয়া। দৈনিক পত্রিকায় ছাপা আমার বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশন চ্যানেল বা দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী। কিন্তু আমি শঙ্কিত। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে দেওয়া কয়েকটি সাক্ষাৎকারের পর আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলো ওই টেলিভিশন চ্যানেল ও দৈনিক পত্রিকাগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।’

জাকির নায়েক জানান, তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেবেন ভিডিও ফুটেজে। আর তা সংবাদমাধ্যমে পাঠাবেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আমি গোয়েন্দাদের সব রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জাকির নায়েক নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই বিবৃতিতে। তিনি বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার সমর্থক নই। আমি বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন আলোচনাগুলোতে বহুবার এ কথা বলেছি যে, আমি কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করি না। কেউ আমার কোনও বক্তব্যকে যে কোনও পর্যায়ের সহিংসতার জন্য ব্যবহার করলে, আমি তীব্রভাবে তার নিন্দা জানাই।’

উল্লেখ্য, গুলশান হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন ফেসবুকে জাকির নায়েককে অনুসরণ করত বলে অভিযোগ ওঠার পর জাকির নায়েক ও পিস টিভির ব্যাপারে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ ও ভারতের কর্তৃপক্ষ। দুই দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয় পিস টিভির সম্প্রচার। সূত্র: দ্য হিন্দু, জি নিউজ।

Share.

Leave A Reply