পুড়ে পুড়ে শুদ্ধ হয়েছি অজস্র রক্তের ইতিহাসে

ফাইজা তাবাসসুম:

বসফরাসের তীরে
সেই আধা চাঁদের রাতে
ঘুম নেমেছিলো প্রতি গৃহে
মায়ের কোলে চিন্তাহীন
শ্বাসের আনাগোনা কেবল।

হে দুশমনের কাফেলা,
তুমি লিরার দামে বিবেক বিকিয়েছ!
তুমি শান্তি বিকিয়ে রক্তের
হোলিতে মেতেছ আচানক।
আমার ‘শান্ত শান্তির গৃহে’ তুমি
গৃহদাহের নীল বিষ ছড়াতে চাও!

হে বৈরী বাতাস,
তুমি জানতে না,
আমি কাপুরুষ পেলে-পুশে বড় করিনি।
বীরেরা এই মাটিতে দাপিয়ে
বেড়িয়েছে সবসময়
তুমি বোধহয় জানতে না!

আনাতোলিয়ায় বিশুদ্ধ রক্তের দানে
নগরী গড়েছি,
যুগে যুগে নিজেকে ধুয়েছি আমি
ভেতরকার সব বর্জ্য তুমুল বর্ষণে
ধুয়েমুছে গেছে।
তুমি জানতে না হয়তো,বুঝতে পারোনি!
কৃষ্ণ সাগর যে আমার পাপ বুকে নিয়ে বয় দিনরাত।

হে আমার শত্রুদল,
তুমি আমার ইতিহাস ঘেঁটে দেখোনি!
হিটাইট, গ্রিক, পারসিক, রোমান
কিংবা মোঙ্গলিকদের রক্তের
বিশুদ্ধতা এনেছিলো উসমানীয় খিলাফত,
তুমি শুধু দেশদ্রোহীর মধুর গানে মত্ত হয়ে
উন্মাদ আচরণ করলে।
আমার লেবাস বদলালেই
ভেতরের আমি যে বদলে যাইনি,
সেতো প্রমাণ দিয়েছি বারবার আমি।

হে আমার কঠিন তিরস্কারীর দল,
তোমরা বুঝতে পারোনি,
বোঝার চেষ্টা করোনি!
তোমাদের জন্য অট্টহাসি আর করুণা!!
এতোটুকুর বেশি আর কিছুর প্রাপ্য তোমরা নও।

রক্তে দারভিশ নাচন,তুমি
দেখে নিয়েছ চোখ খুলে!
দুঃসাহসী হয়ো না শেয়ালের দল!
তোমার ভারী ট্যাংক কিংবা
বুলডোজারের সামনে বৃদ্ধার কঠিন হৃদয়
দেখে তুমি অবাক হয়েছ!
সীসাঢালা তারুণ্যের প্রাচীর দেখে
তুমি মূর্ছা গেলে!

তুমি বিশ্বাসঘাতক,তোমায় ঐক্যবদ্ধ
জনতা আজ জন্মের শিক্ষা দিলো!!
তোমার নির্লজ্জতা আর মুখোশের
আড়ালের বিভৎসতা নিয়ে তুমি
প্রকাশিত আজ!

তুমি পিছু হটো!
তুমি আঘাতে পরাস্ত করার আগেই
হেরে যাওয়া এক বেহায়া।
যেটা ভাবতেই পারনি,
সেটা করে দেখালো আত্মজরা।

দেখো,মর্মরের শীতল সুবাতাস সেই
দাবদাহের পর হৃদয়স্পর্শী বার্তা পাঠিয়েছে,
উন্মুক্ত নীল আকাশে আবার ডানা
মেলেছে তুর্কি পাখির দল।

পাঁজরের মাটির দলা থেকে জন্মেছে যে বীর,
তার চোখের অশ্রুতে ভিজে গেছে
সিদরাতুল মুনতাহার পাতা।
আরশের মাতম শুনতে পেয়েছ কি
তুমি, শুনতে পাওনি?
কি করে শুনবে??
অভিশপ্ত তোমরা!
মোহর মারা চাহনি।

রক্তে রাঙাতে চেয়েছিলে জমিন,
কাপুরুষের মতন,
আনকোরা বিপ্লবের সুগন্ধি ফুল পতাকা রাঙালো,
সুবেহ সাদিকের পবিত্র নরম আলোর মতন।

Share.

Leave A Reply