ঢাকার সব ভাড়াটিয়াদের পরিচয়পত্র দেবে পুলিশ

মুহম্মদ পাঠান সোহাগ, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে পুলিশ একটি করে আইডি নম্বর দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। ৬ আগস্ট ২০১৬ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার কার্যালয়ে মহানগর পুলিশের ওয়েবসাইটের ‘রিলঞ্চিং’ অনুষ্ঠানে নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরবাসীর সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি পুলিশের হাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হলে তা জানানোর অনুরোধও জানান তিনি।

১ জুলাই ২০১৬ তারিখে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর জঙ্গিদের বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনা এসেছে। নজিরবিহীন ওই জঙ্গি হামলার পর কল্যাণপুরের এক বাসায় অভিযান চালিয়ে নয় জঙ্গিকে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা অল্প কিছুদিন আগেই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

গুলশানের হামলাকারীদের তথ্য না রেখে বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং শেওড়াপাড়ার এক বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কল্যাণপুরের ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রীকেও।

এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিকরা ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে চাইছেন না বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি ‘ডিজিটাল ডাটাবেইজ’ করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, “প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার একটি নিজস্ব আইডি নম্বর থাকবে। সে এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও বাড়ি ভাড়া নিলেও সেই তথ্য পুলিশের কাছে থাকবে।”

তিনি জানান, বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের যে তথ্য পুলিশকে দেবে পুলিশ তা সংরক্ষণ করবে এবং সে অনুসারে প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার একটি আইডি নম্বর থাকবে।

তথ্য গোপনের দিন চলে গেছে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এখন তথ্য আদান-প্রদানে কোনো বাধা থাকবে না। জনস্বার্থে তাই পুলিশের ওয়েবসাইটের রিলঞ্চিং করার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের একটি ধাপ।”

তিনি জানান, এই সাইটে পুলিশের বিভিন্ন জোনের কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর, বিট পুলিশিংয়ে যারা কাজ করবে তাদের ফোন নম্বর, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে করণীয় বিভিন্ন ধাপসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য রয়েছে।

সাইটে ঢুকলে ডিএমপির নিউজ পোর্টাল ও ফেইসবুক পেইজে সরাসরি চলে যাওয়া যাবে জানিয়ে আছাদুজ্জামান বলেন,  “জনগণের কথা যেন সহজে জানতে পারি, নিজেদের তথ্য তাদের জানাতে পারি, সেই জন্যই এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ।”

নগরবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো হয়রানির শিকার হলে সেটিও নজরে আনুন।

“জনগণকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করছি। কিন্তু এতে সাধারণ জনগণ যেন বিড়ম্বনার শিকার না হন, হয়রানির শিকার না হন- অবশ্যই সেটা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখব।”

কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে হয়রানি বা বিড়ম্বনার শিকার করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেকটি মহল্লায় পর্যায়ক্রমিকভাবে ‘ব্লক রেইড’ দেওয়া হচ্ছে; যার উদ্দেশ্য সন্ত্র্যাসীরা যেন বাসা ভাড়া নিয়ে নাশকতা বা কোনো ধরনের অপতৎপরতা না চালাতে পারে।

“ইতোমধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যে মেসগুলোতে পুলিশ অভিযান চালানোর কারণে বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলরদের মেস ভাড়া দিতে চাইছে না। আমি এখানে বলতে চাই, ইতোমধ্যে পুলিশকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ব্লক রেইড করার সময় যেন জনগণ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়।”

জননিরাপত্তার স্বার্থে মেস বাড়িতে অভিযান হতেই পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তারা ন্যাশনাল আইডি দেখাতে পারে এবং যে কলেজ-ইউনিভার্সিটিত পড়ে বা যেখানে কাজ করে তার আইডি কার্ড দেখাতে পারে তাহলে যাতে কোনোভাবেই তাদের হয়রানি না করা হয় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”

এ সময় বাড়িওয়ালাদের ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি সতর্ক থাকার কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

“ব্যাচেলরদের ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ নেই, তাদের বাসা ভাড়া দেবেন। কিন্তু বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় তাদের পরিচয় জানুন। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি নেন, যেখানে কাজ করে তার আইডি কার্ডের ফটোকপি নেন, এক কপি ছবি নেন।

“তাদের তথ্য নিকটস্থ থানায় জানান। সেগুলো পুলিশ ভেরিফাই করবে, তাদের প্রিভিয়াস কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কি না- সেগুলে খুঁজে দেখা হবে।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ও মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

Share.

Leave A Reply