৯ চৈত্র, ১৪২৩|২৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৮|২৩ মার্চ, ২০১৭|বৃহস্পতিবার, রাত ১০:১৭

ইউরোপ আওয়ামী লীগে গৃহদাহ!

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অংশের বিদ্রোহের কারণে অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমএ গনি দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম হক খানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলে সংগঠনের একটি অংশ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

১৭ জুলাই ২০১৬ তারিখে সাধারণ সম্পাদক এমএ গনি স্বাক্ষরিত একটি পত্র, যেখানে শামীম হককে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দানের বিষয়টি উল্লেখ ছিল, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পেশ করা হয়। ওই অব্যাহতিপত্রে, শামীম হক খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বসে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের ব্যানারে অবৈধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া শামীম হকের বিরুদ্ধে জার্মান, তুরস্ক, নরওয়ের বেশ কিছু প্রবাসীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে, কখনো সর্ব ইউরোপীয় আবার কখনো প্রবাসী আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার করে ভিজিটিং কার্ডসর্বস্ব কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

শামীম হক খানকে অব্যাহতি দানের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ কিছুদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউরোপের কিছু অনলাইন পোর্টালে এমএ গনির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে প্রচারণা চালানো হয়। সর্বশেষ, গত বুধবার (৩ আগস্ট) শামীম হককে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তারা নিজেদের অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্তের অনুমোদনক্রমেই তারা এই প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী জিএম কিবরিয়া নিজেকে অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

এ ব্যাপারে এমএ গনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্বায়বদ্ধ, তাই কেউ সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আমার সাংগঠনিক দায়িত্ব।

EU Awami League 03_The Dhaka Report

তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অনিল দাশ গুপ্তের জন্য ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি জটিল হয়ে গেছে। তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে একটি চক্র সংগঠন-বিরোধী কার্যকলাপে সংগঠনের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশানে করা সংবাদ সম্মেলনকে তিনি সাজানো নাটক বলে অবিহিত করেন।

তিনি বলেন, কথিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা জার্মানির বশিরুল আলম চৌধূরী, বেলজিয়ামের বজলুর রশিদ, হল্যান্ডের মোহিত ফারুক এরা কারা? এরা অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কেউ নয়।

তিনি আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আমাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের ব্যানারে কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করার এখতিয়ার আছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের।

তিনি অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অনিল দাশ গুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তার ইঙ্গিতেই সংগঠনের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে এই সব অপকর্ম হচ্ছে। আর সেটার জন্য আমি মোটেই ভীত নই।

এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদক অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও এমএ গনির দেয়া বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতাকে গুলশানে করা সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি অনিল দাশ গুপ্তের অনুমোদন ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনিল দাশ গুপ্ত সেই সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। সেখানে বক্তারা তার নাম উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করার অনুমোদন তিনি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনের উপর প্রকাশিত সংবাদেও তার অনুমোদনের কথা এসেছে। কিন্তু অনিল দাশ গুপ্ত সেটার প্রতিবাদ করে কোনো ব্রিফিং দেননি। তাহলে প্রমাণিত হয় যে, এই সংবাদ সম্মেলন করার পেছনে অনিল দাশ গুপ্তের অনুমোদন ছিল।

এ ব্যাপারে অনিল দাশ গুপ্তের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। কার্টিসি: জাগোনিউজ।

Share.

Leave A Reply