স্বামীর ঘুষের টাকায় চললে স্ত্রীর কি গুনাহ হবে?

ইসলাম ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ১৮৬৪তম পর্বে স্বামী ঘুষ খেলে স্ত্রীর গুনাহ হবে কি না, সে সম্পর্কে রাজশাহী থেকে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন মোসাম্মৎ লিনা খাতুন। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন: স্বামীকে আমি ঘুষ খেতে নিষেধ করি। স্বামী বলে যে, ঘুষ না খেলে আমি চলতে পারব না। আমি তাঁকে বলেছি, অল্প একটু খাব। আমাকে পোশাক শুধু দুইটা দিও। তবুও আমার স্বামী ঘুষ খান। তাহলে তো আমাদের রুজি হারাম হচ্ছে। আমি যদি আমার প্রয়োজনীয় জিনিস অল্প একটু কিনি, তা থেকে যদি অভাবগ্রস্তকে দিই, তাহলে কি আমার সওয়াব হবে? আমি তো নিষেধ করেছি। তারপরও যদি আমার স্বামী ঘুষ খায়, তাহলে কি আমারও হারাম খাওয়া হবে? আর আমি যদি দান করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার দান কবুল করবেন না? আমি ইসলামকে শতভাগ মানার চেষ্টা করি। আমার মনেপ্রাণে ইসলামকে ভালো লাগে। শুধু আমার স্বামী ঘুষ খায়, এতে আমি কষ্ট পাই। আমার শুধু মনে হয়, স্বামীকে নিষেধ করার পরও যদি স্বামী ঘুষ খায়, তাহলে আমার পাপ হবে কি? সুন্দরভাবে একটু ভেঙে ভেঙে উত্তর দেবেন।

উত্তর: আর ভেঙে ভেঙে কত দেব? আপনি যেভাবে ভেঙেছেন সেভাবেই যথেষ্ট। তাঁকে আপনি উপদেশ দিয়েছেন, বুঝিয়েছেন। সুদ যে ইসলামে হারাম সেটিও বলেছেন। এরপরও তিনি সুদ খাচ্ছেন। আপনি তো কম বোঝাননি। তারপরও বোঝান যে এর মধ্যে কোনো বরকত নেই। এর মধ্যে দুনিয়া, আখিরাতে কোনো কল্যাণ নেই; বরং দুনিয়ার ক্ষতি রয়েছে এবং আখিরাতের বড় ক্ষতি রয়েছে। যেহেতু আমার নবী (সা.) হাদিসের মধ্যে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, লানত দিয়েছেন, অভিশাপ দিয়েছেন যে এটি একটি অভিশপ্তকর্ম। এ বিষয়গুলো তাঁকে বোঝান।

যেহেতু আপনি ঘুষ খাচ্ছেন না, এই কাজের সঙ্গে আপনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং আপনি এ কাজের জন্য বাধা দিচ্ছেন, তাই আপনার এখানে কোনো গুনাহ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তো আল্লাহর বান্দাদের ওপর সামান্যতম জুলুম করেন না। আর এ জুলুম করেন না বলেই বান্দার যে অপরাধ নয়, সে অপরাধ আরেকজনের অপরাধ হিসেবে বান্দাকে ধরবেন না। এই অপরাধটুকু আপনার স্বামীর জন্য। সে এই অপরাধের জন্য অপরাধী হবে এবং সেই অপরাধের শাস্তির মুখোমুখি তাঁকেই হতে হবে।

আপনি এর জন্য অপরাধী হবেন না। আপনার দান আল্লাহর জন্য গ্রহণযোগ্য হবে, কবুল হবে। আপনার ভরণপোষণের দায়িত্ব যেহেতু তাঁর ওপর, সে দায়িত্ব গ্রহণ করা আপনার জন্য জায়েজ হবে। সুতরাং এর জন্য আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। শুধু একটাই চিন্তাই করতে পারেন। সেটা হচ্ছে, কীভাবে আপনি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে, অত্যন্ত শালীনভাবে আপনার স্বামীকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে পারেন, সেটার চেষ্টা করুন। কার্টিসি: এনটিভি অনলাইন।

Share.

Leave A Reply