কাশ্মীরের মুক্তির লড়াইয়ে সমর্থন অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

ভারতের অব্যাহত হুমকির মধ্যে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা কাশ্মীরিদের লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার তারা এক বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরিদের প্রতি পাকিস্তান তার নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’ তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরিদের ওপর ভারতের নৃশংসতা বরদাশত করা হবে না।’

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসের খান জানজুয়া, পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ চৌধুরী, ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনের মেজর জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জাসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

গত জুলাই মাসে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতির ওপর এটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় বৈঠক।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভারত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে।

বৈঠকে ভারতের পদেক্ষেপ এবং সম্ভাব্য হামলার জবাব নিয়ে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘উসকানি সত্ত্বেও পাকিস্তান অতুলনীয় ও অভূতপূর্ব সংযম দেখিয়েছে।’

বৈঠকে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সামরিক প্রস্তুতির সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

ইসলামাবাদ মনে করে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমনে যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে তা থেকে বিশ্বের নজর সরাতেই দিল্লি উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাধারণ পরিষদে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ভাষণের জবাবে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মালিহা লোদি  উরি হামলাকে সাজানো হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের নৃশংসতা থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরাতেই উরিতে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবেই জানে অতীতেও কৌশলগত এবং অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ভারত এ ধরনের ঘটনা সাজিয়েছে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান কাজ করে যাবে।

নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘একুশ শতকের সম্ভাবনা ও অগ্রগতিতে দেশের জনগণকে সক্রিয় করার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাকিস্তান একটি শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।’

সন্ত্রাসবাদ ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পাকিস্তানে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত,  বাংলাদেশ,  ভুটান ও আফগানিস্তানের যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্যাপারে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘বিশ্বশান্তির জন্য পাকিস্তানের অসাধারণ ত্যাগের কথা সারা বিশ্ব জানে।’ এ সময় তিনি সিন্ধুর পানিচুক্তি বাতিলে ভারতের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্মতিতে সিন্ধুর পানিচুক্তি হয়েছে। কোনো এক দেশ একতরফাভাবে কোনো চুক্তি থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারে না।’

Share.

Leave A Reply