শিগগিরই ঘোষণা করা হচ্ছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

যেকোনো মুহূর্তে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর কাউন্সিলররা দলের নির্বাহী কমিটিসহ সব অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের দায়িত্ব চেয়ারপারসনের ওপর অর্পণ করেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই বাচাই শেষে ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব। এরপরই মূলত যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতিমধ্যে চলতি মাসের ২৭ তারিখে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহাম্মেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করেন দলের সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। এদিকে যুবদলের কমিটিও প্রস্তুত রয়েছে বলে দলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তিনটি ফরম্যাটের যেকোনো একটি ঘোষণা করা হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। নিরব–মজনু, নিরব–টুকু, টুকু-মজনু এমনটাই হতে পারে বিএনপির আন্দোলনের ভ্যানগার্ড খ্যাত যুবদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি।

সুপার ফাইভের অন্য নেতাদের মধ্যে সিনিয়র সহ সভাপতি, যুগ্ন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আসতে পারেন আ ক ম মজাম্মেল হক, এস এম জাহাঙ্গীর, মুরতাজুল করিম বাদরু।

২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি ও সাইফুল আলম নীরবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে হামিদুর রহমানকে সভাপতি ও মহানগর দঃ ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে সম্পাদক করে মহানগর দঃ, মামুন হাসানকে সভাপতি ও এস এম জাহাঙ্গিরকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

২০১০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ২০১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেন। এই কমিটির মেয়াদ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়। ওই কমিটি গঠনের পর থেকে আলাল-নিরব কখন ও একসঙ্গে চলতে পারেননি। এমনকি তাদেরকে একসঙ্গে মঞ্চে খুব কমই দেখা যায়।

মহানগর দঃ যুবদলের সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে  গ্রুপিং দেখা না গেলেও মহানগর উত্তর যুবদল কেন্দ্রের পথ অনুসরণ করে গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। পরে দলীয় কার্যক্রমে তা ফুটে ওঠে বলে যুবদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা স্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবদল নেতা এ প্রতিবেদককে জানান, সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে সাবেক যুবদল নেতা ও বিএনপি’র নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আশালীন আচরণের অভিযোগ জমা পড়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন এর কাছে। সুতরাং এদিক থেকে সাইফুল আলম নিরবের থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এগিয়ে রয়েছেন।

কমিটি গঠনের খবরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, এবার যুবদলের কমিটি যেন শিক্ষিত, মার্জিত, কর্মীবান্ধব সাবেক ছাত্রনেতাদের দিয়ে গঠন করা হয়। তাহলেই আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদল তার যথার্থ সফলতা দেখাতে পারবে। অন্যথায় পূর্বের কমিটির মত নতুন কমিটিতে যদি একই সমস্যা থাকে তাহলে বিএনপি তথা দেশবাসীর জন্য সেটা হবে একটা খারাপ খবর। এতে করে যুবদল তথা বিএনপি’র রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেটা যেন না হয় এমনটাই প্রত্যাশা যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের।

Share.

Leave A Reply