৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৭ নভেম্বর, ২০১৮|শনিবার, বিকাল ৩:২১

যেভাবে গড়ে তুলবেন শিশুর পড়ার অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: “আমার বাচ্চাটা একদম বই পড়তে চায় না” – সব মায়েদের অতি পরিচিত আক্ষেপ। একটু সচেতন হলে এই আক্ষেপ থেকে অভিভাবকরা পরিত্রাণ পেতে পারেন। একদম শুরুতে সন্তানদের মাঝে বইয়ের প্রতি ভালবাসা তৈরি করে দিতে পারলেই এক্ষেত্রে মা বাবার দায়িত্ব মোটামুটি শেষ বলা যায়। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে আপনার সোনামনিকে বইমুখী করা যায়।

১. সন্তানের যখন মাত্র বুলি ফুটছে তখন থেকেই তার হাতে বই দেওয়ার চেষ্টা করুন। আকর্ষণীয় ইলাস্ট্রেশনযুক্ত বই দেখিয়ে তার কল্পনার জগতের দরজা খুলে দিন এই বয়সেই।

২. কেবল বইয়ের অক্ষরের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বইয়ের ছবি দেখিয়ে বাচ্চাকে রঙ চেনান, বিভিন্ন বস্তুর নাম শেখান।

৩. বই পড়তে পড়তে আপনার আদরের সোনামনির উপর যেন একঘেয়েমি ভর না করে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ওকে আদর করুন, ওকে বোঝান বই পড়ছে বলে আপনি ওর উপর ভীষণ খুশী!

৪. আপনার সন্তান স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত হলে ওকে বইয়ের লেখক সম্পর্কে ধারণা দিন। ওর সাথে সেভাবেই বই নিয়ে কথা বলুন যেভাবে একজন প্রাপ্তবয়ষ্কের সাথে বলা হয়।

৫. বইয়ের গল্পের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মেলবন্ধন করার চেষ্টা করুন। “আয় বৃষ্টি ঝেপে” কবিতা পড়ার সময় তাকে মনে করিয়ে দিন গত বুধবার কত মজা করে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আপনারা বাড়ি ফিরেছিলেন!

৬. একটা বয়সে বাচ্চারা কেবল প্রশ্ন করে। সবকিছুতে “কেন কেন” জিজ্ঞেস করে তারা সবকিছুই বুঝে নিতে চায়। বই পড়ার সময় বাচ্চার প্রশ্ন থামিয়ে দিবেন না। ধৈর্যের সঙ্গে যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. কখনওই পুরো বই শেষ করতে তাড়া দিবেন না। আপনার সন্তান যতটুকু সময় নিয়ে বই পড়ছে ততটুকু মূল্যায়নের চেষ্টা করুন। বই কখন শেষ করবে, আদৌ শেষ করতে পারবে কিনা এমন অস্থিরতা ওর মধ্যে তৈরি করে দিলে বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ মরে যেতে পারে।

৮. গল্প পড়ে শোনানোর সময় চরিত্রের প্রয়োজনে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করুন। কখনও কন্ঠস্বর মোটা করে, কখনও চিকন করে বাচ্চার সামনে গল্পের চরিত্রগুলো চিত্রায়িত করুন। পরবর্তীকালে নিজেই লক্ষ্য করবেন আপনার সন্তানের কাছে বই হয়ে গেছে আনন্দের অপর নাম।

৯. গল্পের সবটা নিজেই বলে দিবেন না। মাঝে মাঝে সন্তানের কাছেই জানতে চান ওর কী মনে হয়? ইদুর কি পারবে সিংহের হাত থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে? ওকে ভাবতে শেখান, নিজের মত করে গল্পের উপসংহারে পৌঁছুতে দিন। গল্পের সঙ্গে শিশু ভাবনা মেলাতে শিখে গেলে গল্পের নীতিবাক্য ওর মনে আপনা আপনিই গেঁথে যাবে।

১০. বই পড়ার সঙ্গে যথাসম্ভব ফর্মালিটি জুড়ে না দেয়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান সবসময় পড়ার টেবিলে বই নাও পড়তে চাইতে পারে। কখনও সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে কখনও বিছানায় শুয়ে বই পড়তে চাইলে তার ইচ্ছাকে সম্মান করুন। তবে সবকিছুতেই আপনার প্রচ্ছন্ন নিয়ন্ত্রণ থাকা চাই।

১১. কোন বয়সে কোন বই পড়া উচিৎ তা আগেই ঠিক করে নিন। সন্তানের হাতে সে অনুযায়ী বই তুলে দিন।

ভুল সময়ে ভুল বই আপনার সন্তানের মনোজগতে যেন বিরূপ প্রভাব না ফেলতে পারে তার দেখভাল করার দায়িত্ব আপনারই।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply