৬ মাঘ, ১৪২৪|১ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৯ জানুয়ারি, ২০১৮|শুক্রবার, রাত ১১:৩৮

পুকুরের নিচে আলো, নির্ঘুম এলাকাবাসী!

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরের নিচে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আলো জ্বলতে দেখেন এলাকাবাসী। এরপর আলোর উৎস নিয়ে তাঁদের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। ২২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে পুকুরের পাশে সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হয়ে যায়।

রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আছাদ আলীর মালিকানাধীন ওই পুকুরপাড়ে সহস্রাধিক কৌতূহলী জনতার ভিড়। পাড়ের কাছেই পানির নিচ থেকে আলোর আভা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলতে থাকেন, এটা ‘ভূত-প্রেতের কাণ্ড’। বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিরা ‘ভূত-প্রেত’কে নাকচ করে দিয়ে পানির সঙ্গে কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের বিক্রিয়া ঘটায় এমন আলোর দেখা মিলেছে বলে মন্তব্য করেন। কেউ আবার বলেন, কোনো মূল্যবান ধাতু থেকে এই আলো জ্বলছে। কেউ কেউ এটাকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের লক্ষণ বলেও মন্তব্য করেন। কাউকে কাউকে আবার সিনেমার গল্পের নাগমণির আলোর সঙ্গেও তুলনা করতে দেখা গেল।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে পুকুরে নামার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু কেউ নামতে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে স্থানীয় চার ব্যক্তি একসঙ্গে পুকুরে নামতে রাজি হন। আলোর উৎসের সন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁরা পুকুরের নিচ থেকে তুলে আনেন জ্বলন্ত একটি টর্চ লাইট। অবসান হয় সব জল্পনা-কল্পনার। সবাই এক এক করে বাড়ি ফিরে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা খানম বলেন, কৌতূহল থেকে ওই পুকুরের আশপাশে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। কারও ফেলে যাওয়া টর্চ লাইট থেকে ওই আলো আসছিল। লাইটটি উদ্ধারের পর সব রহস্য ঘুচে যায়।

Share.

Leave A Reply