সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বজন সাদিয়া মুমু

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত শিশু কিংবা দুর্ভাগা শিশু। আমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু শিশুকে আমরা এভাবেই বিশেষায়িত করতে অভ্যস্ত। এমন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে আনতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের মেয়ে সাদিয়া বিনতে শাহজাহান (মুমু)। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কষ্ট তার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আর তাই তাদের আলোয় ফেরানোর স্বপ্ন তার চোখেমুখে।

সাদিয়া মুমু’র এমন স্বপ্ন হয়তো তার পরিচিত কারো কারো কাছে এক ধরনের পাগলামি। তবে তাতে তার কিছু যায় আসে না। নিজের লক্ষ্যে তিনি স্থির, অবিচল। ছোটবেলা থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন। যখন যেভাবে পারছেন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এই শিশুদের নিষ্পাপ হাসিতেই তার আনন্দ।

স্বভাবতই সদ্য তারুণ্যে পা রাখা একজন মানুষের চোখে থাকে ঝলমলে রঙিন আগামীর স্বপ্ন। তবে অন্য সবার মতো নন মুমু। সবার মধ্যে থেকেও তিনি ব্যতিক্রমী। তাই মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সহজেই নজর কাড়ে তার; হৃদয়কে করে ক্ষতবিক্ষত। এমন ক্ষত কাটাতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাদিয়া মুমু।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী মুমু ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম। সব সময় অন্যের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই নিজের ভালো লাগা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা তার। ক্ষুধার্ত কোনো শিশুর মুখে খাবার তুলে দিয়ে একটু হাসি ফেরানোর মধ্যেই আনন্দ তার।

সাদিয়া মুমু’র ভাষায়, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি ভালোবাসা কবে থেকে ঠিক বলতে পারবো না। কেবল রাস্তার ধারে অনাহার মুখ আর ধুলেমাখা হাড্ডিসার শরীরগুলো দেখলে চোখ ফেটে কান্না বেরুতো। খুব কষ্ট লাগতো যখন ফুটপাতে চলতে গিয়ে দেখতাম রাস্তার ধারে খালি গায়ে শুয়ে আছে ওরা। দৌড়ে গিয়ে কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতাম। আরাম পেয়ে চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতো। তাদের এই নিষ্পাপ হাসি দেখেই আমার মন শান্ত হতো। মনে হতো এর চেয়ে শান্তি আর কিসে?’

মুমু বলেন, ‘আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনেকে আমার এসব দেখে হাসাহাসি করে, আমাকে হেয় করে কথা বলে। আমি এসবে কান দেই না। কারণ আমার আহবান মানবতার জন্য। মানবের মুক্তি।’

নিজের কাজ সম্পর্কে সাদিয়া মুমু বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করতে হলে অর্থটাই মুখ্য। শিক্ষার্থী হওয়ায় আর্থিক দৈন্যতা সবসময়ই ছিল। কিন্তু এতে আমি পিছপা হইনি। সাধ্যের মধ্যে ওদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা আমার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। আমার একার পক্ষে এটা সম্ভব না হওয়ায় যুক্ত হই সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে। যাতে সম্মিলিত প্রয়াসে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারি।’

সাদিয়া মুমু তার কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনে পেপার বিক্রি করা শিশুদের নানা সমস্যা দেখেছি। ওদের বাসায় গিয়ে অভিভাববকদের বুঝিয়ে বলেছি। কয়েকজনকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি স্কুলে। ওরা অনেকেই এখন ফুলটাইম স্টুডেন্ট। ভ্রাম্যমাণ পথশিশুদের স্কুলগুলোতে আমি সময় দেই। তবে আমার স্বপ্ন একদিন নিজেই গড়ে তুলবো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ আলয়।’

একটা বৈষম্যহীন, মানুষে মানুষে ভেদাভেদমুক্ত দুনিয়ার স্বপ্ন দেখেন সাদিয়া মুমু। হতে চান তার স্বপ্নের পৃথিবী গড়ার একজন অংশীদার। কার্টিসি: রেজাউল করিম, রাইজিং বিডি।

Share.

Leave A Reply