‘না’ বলতে শেখা জরুরি: লেডি গাগা

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: মার্কিন গায়িকা, গীতিকার ও অভিনয়শিল্পী লেডি গাগা। ছয়টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, তিনটি ব্রিট অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড—কোন অর্জন নেই তাঁর ঝুলিতে! ২০১১ সালে বর্ন দিস ওয়ে ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক সংস্থা চালু করেছেন তিনি। তরুণদের অনুপ্রেরণা দিতে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠান। গতবছর ২৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘নিজেকে চেনার গুরুত্ব’ সম্পর্কে কথা বলেছেন এই তারকা শিল্পী।

আমি যখন বর্ন দিস ওয়ে অ্যালবামের কাজ শুরু করি, তখন থেকেই মূলত বর্ন দিস ওয়ে ফাউন্ডেশনের ভাবনাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। গানটা লেখার সময় ভাবছিলাম—আমি কীভাবে রাগ, কষ্টের অনুভূতিগুলো মানিয়ে চলি। তখন মনে হলো, এই সাহস আমাকে দেয় আমার শ্রোতারা। আমার শ্রোতারা হলো সেই ডিস্কো বলের অসংখ্য ছোট ছোট আয়নার মতো, যেখানে আমি আমার অনেকগুলো প্রতিফলন দেখতে পাই। আমরা আমাদের হতাশা, মানসিক চাপগুলো ভাগাভাগি করে নিই।

সেই একই লক্ষ্যে আজ আমরা এখানে একত্র হয়েছি। মানুষের মস্তিষ্কের একটা অংশ মানসিক ও শারীরিক ধকলগুলো কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। একে অপরের পাশে দাঁড়ালে সেটা আরও সহজ হয় এবং এই পাশে দাঁড়ানোর কিছু কৌশল আছে। যেমনটা তোমাদের উপাচার্য কিছুক্ষণ আগে বলছিলেন—একটা শিশুকে সাহায্য করতে চাইলে তাকে বোলো না, ‘এটা করো।’ বরং তাকেই জিজ্ঞেস করো, ‘আমি তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’

নিজেকে শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতে আমি যতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, ততটাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি বর্ন দিস ওয়ে ফাউন্ডেশনের একজন কর্মী হিসেবে। আজকের লেডি গাগা আমারই আবিষ্কার। এটা ছিল নিজের দুর্বলতা কাটানোর একটা উপায়। আমি আমার এমন একটা চরিত্র তৈরি করেছি, যে ‘আমার’ চেয়ে শক্তিশালী।

লেডি গাগা

লেডি গাগা

লোকে তোমাকে কীভাবে দেখে, কতটা সফল মনে করে, তুমি কতটা বিখ্যাত—এসবে কিছুই যায় আসে না। তোমার কাছে একজনের দৃষ্টিভঙ্গি, একজনের মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই মানুষটা তুমি নিজে! এই কথাটাই বর্ন দিস ওয়ে ফাউন্ডেশনে আমরা বলতে চাই। আমরা বলতে চাই, কেন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার জ্ঞান মানুষের থাকা উচিত।

মাননীয় উপাচার্যের আরও একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি নোট নিয়েছি। তিনি বলছিলেন, শুধু মানসম্মত শিক্ষার সনদ অর্জন করলেই চলবে না, আবেগ আর সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়েও ‘মান’ থাকা চাই।

এক সময় আমার ভেতর ভীষণ দুশ্চিন্তা, হতাশা চেপে বসেছিল। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম। ওষুধ খেয়ে কাজ হচ্ছিল না। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, আকুপাংচার, যোগব্যায়াম—সব চেষ্টা বৃথা প্রমাণিত হলো। গান লেখা, গান গাওয়ায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি, কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। আরও হতাশ লাগছিল এই ভেবে, সমস্যাটা আমার ভেতরে, আর আমি বাইরের নানা কিছুর মধ্যে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি। তখন আমি আবিষ্কার করলাম, আসল কারণটা হলো, আমার একটা অংশ ভেতর থেকে চিৎকার করে বলছে, ‘না’। আমি যা করছি, তা তো আমি করতে চাইনি।

লেডি গাগা

লেডি গাগা

তোমাদের আশপাশে গুরুজনেরা আছেন, শিক্ষকেরা আছেন। কিন্তু কী করবে আর কী করবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই তোমার আছে। কী বিশ্বাস করবে আর কী করবে না, সেটা তোমার ব্যাপার। ইয়েল নিশ্চয়ই তোমাদের চাবি দেওয়া পুতুল বানাতে চায় না। ভুল বললাম?

তো যা বলছিলাম, আমার ভেতরের একটা অংশ চিৎকার করে বলছিল, ‘না’। পারফিউমের প্রচারণা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখে হাসি ধরে রেখে মানুষের সঙ্গে হাত মেলানো, সেলফি তোলা—এসব আর ভালো লাগছিল না। খুব খারাপ লাগত, যখন কাজের চাপে আমার সৃষ্টিশীলতা, ভালো লাগার জায়গাগুলো চাপা পড়ে যেত। স্রেফ একটা টাকা তৈরির যন্ত্র হয়ে যাচ্ছিলাম।

তো আমি কী করলাম? ‘না’ বলা শুরু করলাম। আমি এটা করব না, ওটা করব না, এই ছবি আমি তুলব না, ওই অনুষ্ঠানে যাব না, এখানে আমি দাঁড়াব না…এই ‘না’ গুলো আমাকে মনে করিয়ে দিল, আমি আসলে কে। তখন থেকে একটা ফুরফুরে মন নিয়ে ঘরে ফিরতে শুরু করলাম। রাতে আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হলো, হ্যাঁ, এই মানুষটাই তো আমি। এই মানুষটার সঙ্গে প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়া যায়, কারণ এই মানুষটাকে আমি চিনি! (সংক্ষেপিত)।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মো. সাইফুল্লাহ। সূত্র: ইয়েল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট।

Share.

Leave A Reply