শিশু লীগের পর এবার ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

শিশু লীগের পর এবার বাজারে এসেছে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’। জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিবার্ষিক ‘জাতীয় সম্মেলন’ও আয়োজন করেছে নতুন এ সংগঠনটি। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্মেলনের কাভারেজ দিতে সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়েছে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে এই সংগঠন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন ওই সংগঠনের সভাপতি মাহবুব আলম।

সংগঠনটি সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ধরনের সংগঠন যারা করেছে, তারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

২৪ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’-এর প্যাডে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আমির হোসেনের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। সেখানে লেখা হয়, সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা। আর এতে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনটির সভাপতি মো. মাহবুব আলম।

sajeeb-wazed-joy-parishad-02_the-dhaka-report

জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, ‘জয় ভাইকে ভালোবাসি। এ জন্য তাঁর নামে এই সংগঠন করেছি। এই সংগঠনের অনুমোদনের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে আবেদন করেছি। তবে এখনো অনুমোদন পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটিতে যারা পদ-পদবি পায়নি, তাদের সংগঠিত করে এই সংগঠন করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে এমপি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন ধরেননি। কিছুক্ষণ পর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগেও জয়ের নাম ব্যবহার করে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’ নামের একটি সংগঠন খোলেন রনি আহম্মেদ নামের ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক ব্যক্তি। এরপর এটা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। পরে নিজের ফেসবুকের ভেরিফায়েড পাতায় জয় লেখেন, ‘কেউ “সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ” খুলে বসেছে। এই লীগ পুরোপুরি অননুমোদিত এবং আমার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমার পরিবার এবং আমি চাই না যে অহেতুক আমাদের পরিবারের নাম ব্যবহার হোক। এতে কেবলই আমাদের দল ও পরিবারের ভাবমূর্তি, বিশেষ করে আমার পিতামহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

shishu-league-03_the-dhaka-report

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিশু লীগ’ নামের একটি সংগঠনের হদিস পাওয়া যায়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়সাল আহাম্মদ মুন্সী এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

ফয়সাল বলেন, “আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত। প্রত্যেক বাবা-মা শিশুদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু নেতা হবার, বঙ্গবন্ধুর মত হবার স্বপ্ন কেউ দেখায় না। তাই তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছোট সময় থেকেই গড়ে তুলে নেতা বানানোর জন্য আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এই সংগঠন থেকেই আগামীতে কেউ না কেউ বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবে, জাতির হাল ধরবে।”

shishu-league_the-dhaka-report

ওই সময়ে ফয়সাল বলেন, “ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির ফরমেট তৈরি হয়ে গেছে। ডেমরার তিনটি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ডেমরার আমতলা ইউনিয়ন শিশু লীগের সভাপতি ইভান।”

প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই কেবল শিশু লীগ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

শিশুলীগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানানোর পরামর্শ দেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ শিশু লীগের জন্মের কথা জানেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শিশুদের রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্যবহার করায় ২০১৩ সালে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনিসেফ। ওই সময় এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলে, “রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য শিশুদের ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। শিশুদের বিপদমুক্ত রাখতে হবে।”

Share.

Leave A Reply