বাণিজ্য মেলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার ২৫% ভোক্তার

বিজনেস ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

বাণিজ্য মেলায় পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবে এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও আছে। তথ্য-প্রমাণসহ প্রতারিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ক্রেতার (ভোক্তা) অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দেয়া হয়।

ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে মেলায় অস্থায়ীভাবে আছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযোগ পেলেই অভিযানে নামছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছে সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি।

মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, সুযোগ পেলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে। অল্প কয়েক জনের জন্য মেলার সুনাম নষ্ট হয়। তবে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মেলায় সার্বক্ষণিক আছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মেলার ভিআইপি গেটের পাশে এবং সচিবালয়ের উল্টো পাশে সংস্থাটির অফিস। ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ঠেকাতে এবং ভোক্তার অধিকার ও সুবিচারের বিষয়ে বাণিজ্য মেলায় প্রচারণা চালাচ্ছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মেলায় খাবার ও অন্যান্য পণ্যের গলাকাটা দাম নিলে অভিযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ক্রেতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের প্রকাশিত লিফলেটে ভোক্তাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে- খুচরা বিক্রয় মূল্য, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, ইত্যাদি দেখে পণ্য বা ওষুধ কিনুন। মিথ্য ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকুন। ভেজাল ও নকল পণ্য বা ওষুধ প্রস্তুত এবং ফরমালিনসহ ক্ষতিকর দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যপণ্য ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। পণ্য ক্রয়ের সময় ওজন বা পরিমাপ সঠিকভাবে বুঝে নিন। মূল্য নির্ধারিত থাকলে তা দেখে কিনুন। হোটেলের খাবারের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।

যেসব বিষয়ে ভোক্তা তার অধিকারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন: পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা, মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করা, সেবার মূল্য তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, ধার্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্য নেয়া, ওষুধ বা সেবা বিক্রয়, ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারিত করা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করা, ওজনে কারচুপি, বাটখারা বা ওজন-পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপি, দৈর্ঘ পরিমাপে ব্যবহৃত ফিতায় কারচুপি, পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কাজ, অবহেলা ইত্যাদি দ্বারা সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য, জীবনহানী ইত্যাদি ঘটানো, মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, অপরাধ পুনঃসংঘটন ও বাজেয়াপ্তকরণ।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০০৯-এর ৩৭ থেকে ৫৬ ধারা পর্যন্ত এসব অপরাধে নির্ধারিত সর্বোচ্চ (তিন বছর) মূল্যের দ্বিগুণ দামসহ মালামাল বাজেয়াপ্তকরণের বিধান আছে। আইনের আওতায় অভিযোগ করলে এবং তা কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হলে জরিমানা করা হয়ে থাকে। পরে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হয়। এ আইনের আওতায় একজন ভোক্তা সারা বছরই সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

ভোক্তাদের অধিকার ও সহায়তার বিষয়ে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভি জানান, প্রতিদিনই ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী ও মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো অপরাধ পরিলক্ষিত হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় অভিযান চালানো হচ্ছে। মেলায় এ পর্যন্ত ভোক্তাদের অভিযোগ ও অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে ১ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে এবং কয়েক দফায় অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্রেতা সাধারণের অভিযোগে এবং অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে হাজির বিরিয়ানি, হোসেন ট্রেডিং, ইরানী পণ্যের সমাহার ও হেভেন হারবাল নামের প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

বিভাগ:বিজনেস
Share.

Leave A Reply